জাপানে তরুণ কবিদের
"আড্ডা ক্যাফে"তে বংগবন্ধুর আত্নজীবনী ও একজন ব্যান্ড তারকার
বাংলাপ্রীতি
কাজী ইনসানুল হক, টোকিও থেকে
জাপান প্রবাসী মাঈনুল ইসলাম, কবি মিল্টন
হিসেবেই পরিচিত। চিবা জেলায় তার বাসা। মাত্র তিন মিনিট হাটার দূরত্বে
পারিবারিক বাসায় একা বাস করেন জাপানী যূবক তেতসুয়া কোবায়াশি
(Tetsuya Kobayashi) চলতে পথে
নিতান্তই কৌতুহল ও সামান্য আলাপচারিতায় দু'জনের পরিচয় হয়েছিল তাও অনেকদিন,
তারপর হৃদ্যতা। দু'জনেই বোহেমিয়ান স্বভাবের। একজন কবিতাপ্রেমী, কবিতার
ভাবসাগরে ভাসতে পছন্দ করেন, অপরজন গান করেন,ঠিক ব্যান্ড সংগীত নয়, হারিয়ে
যাওয়া চিরায়ত গানকে গিটারে ভিন্ন ঘরানায় পরিবেশন করেন। গায়ক, সুরকার
হিসেবেও তার পরিচিতিও ব্যাপক।"এনকা" গানের ভক্ত তেতস্যুয়া লোকজ সংগীত এনকাকে
ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে চলেছেন।
অগ্রাসন বিরোধী গান করেন, বিশ্বযূদ্ধকালীন জাপানী অগ্রাসনের সমালোচক
তেতস্যুয়া বিশ্বাস করেন যুদ্ধ কখনও শান্তি আনতে পারেনা।
মিল্টন ও তেতস্যুয়া পরস্পরের বেশ ঘনিষ্ট। দুই বাসাতে দুইজনের অবাধ যাতায়াত।
ভালমন্দ রান্না হলেই দু'জনেই তার স্বাদ গ্রহন করেন। বাংলাদেশের নানান
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসে বাংলাগান শূনে তেতস্যুয়া কোথায় যেন জাপান বাংলা
সূরের সমান্তরাল ধারা খূজে পান। শিখে ফেলেন বেশ কটা গান, প্রবাসীদের আয়োজিত
অনুষ্ঠানে তা পরিবেশন করেন।
বাংলাদেশকে জানার ইচ্ছে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ও এখনকার
বাংলাদেশ নিয়ে তার জানার পরিধি অনেক। আচমকা একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করে বসেন
তোমাদর সেনাবাহিনী শেখ মজিবরকে, জিয়াউর রহমানকে কেন মেরেছে। সেনাবাহিনী কেন
রাজনীতিতে? ড: ইউনুস ও গ্রামীন ব্যাংক নিয়েও তার আগ্রহের কমতি নেই। আচমকা
আমাকে পেয়ে যার এত প্রশ্ন, জানিনা মিল্টন তার প্রশ্নের ভার কতটা সামলান?
মাৎসুদো শহরের প্রানকেন্দ্র লাইব্রেরী কাম কফি শপ "ট্রেজার রিভার বুক ক্যাফে"।
মূলত তরুণ কবিদের আড্ডাখানা। কবিরা মাঝে মধ্যে সমবেত হন, নিজেদের লেখা পড়েন,
প্রকাশিত লেখা নিয়ে আলোচনা করেন। কবিদের এই সংগঠনটি র নাম "চিবা সিতেই"
জাপান ছাড়াও বছরে একবার বহির্বিশ্বে সমাবেশ হয় আমেরিকা, ফ্রান্স, কানাডা সহ
অন্যদেশে। মত বিনিময় করেন, আমন্ত্রিত হয়ে তারাও আসেন। নিজেরাই খরচ করেন।
মিল্টন, তেতস্যুয়াও এই ক্লাবের সদস্য।
বঙ্গবন্ধুর আত্নজীবনী জাপানী ভাষায় প্রকাশিত হলে তেতস্যুয়াকে একটি বই পড়ার
জন্য দিতে আমি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনকে অনুরোধ করলে তিনি উপহার হিসেবে
তাকে একটা বই পাঠিয়ে দেন। বইটা পেয়ে তেতস্যুয়া অভিভূত হয়ে যান।
গত ২১ ফেব্রূয়ারী আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে মিল্টনের হাত থেকে বইটা তিনি
গ্রহন করেন। বইটি আনুষ্ঠানিক ভাবে লাইব্রেরীতে হস্তান্তর করার জন্য ক্যাফের
আড্ডায় সমবেত কবি, গায়ক ও উপস্হিত জাপানীদের সামনে কবি তাকেও ওশিমা-র
সঞ্চালনে বিশেষ অনুষ্ঠানে শহীদ দিবসের তাৎপর্য, জাপান সরকারের দেয়া জমিতে
নির্মিত টোকিও শহীদ মিনার স্থাপন ইত্যাদি মিল্টনের মুখে শুনে বাংলাদেশের
প্রতি সবার আগ্রহ লক্ষ করা যায়। বইটি তারা লাইব্রেরীর বিদেশী কর্নারে বিশেষ
তাকে সযত্নে রেখে দেন। উপস্হিত ছিলেন বুক ক্যাফের মালিক কোজি তাকারাগাওয়া
(Koji Takaragawa), আয়া হাৎসুশিমা
(Aya Hatsushima), ইসাও ইয়ামাগুচি
(Isao Yamaguchi), ইয়াসুশি কিমুরা
(Yasushi Kimura), হিরোইউকি মিগাতা
(Hiroyuki Migata), মাচিকো
ওশিমা (Machico Oshima), উরাও সান
(Urao San), সাতো সান (Sato
San), সাবুরো সান (Saburo
San), সুবিরো সান
(Subiro) প্রমুখ। ইতিমধ্যে
বা্লাদেশকে নিয়ে জাপানি ভাষায় লেখা ক'টা বই সেখানে সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
তেৎস্যুয়া সান এখন নেপালে, ভলান্টিয়ার হিসেবে ভুমিকম্প পরবর্তী পূনর্বাসন
গ্রুপের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। সুযোগ হলে জনহিতকর কাজে বাংলাদেশেও যেতে
আগ্রহী। ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের চিরায়ত গানের সূরে জাপানী ভাষায় ক'টি গান করে
অডিও সিডি প্রকাশের।
kaziensan@gmail.com
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা] |