|
|
খালেদা-হাসিনার 'না'-'হ্যাঁ' এবং আমজনতার আগামী
মোমিন মেহেদী
তত্বাবধায়ক সরকার মনেই গণতন্ত্র পরিপন্থী একটি
বিষয়। তারপরও দেশে একটি বিশেষ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কারণে এই আইনটির
প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল এবং সেই প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বরং
প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরিক সন্ধেহ এবং অবিশ্বাস সাংঘাতিক
রকমের বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এটির প্রয়োজনীয়তা পূর্বের চেয়ে আরো বেশী করে দেখা
দিয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের আন্দোলেনর মুখে দুই বছর অবৈধ ভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে
ছিল উদ্দিন সম্প্রদায়। কিছুদিন আগে এই তত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষনা করেছে
আদালত। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোটের্র রায় ছিল, \"তত্বাবধায়ক সরকার আইন সম্পূর্ণ
অ-বৈধ, তবে ইচ্ছে করলে আগামী দু\'টি নির্বচান তত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় করা
যেতে পারে।\" আদালতের রায় বিএনপি যদি মেনে নেয় তাহলে দেখা যাবে কিছু নতুন
চিত্র। যেমন- যদি ঐচ্ছিক বিষয়টি আমলে না এনে পাড় পেয়ে যায় তাহলে আগামী
নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে। সূতরাং কেল্লা ফতেহ্। মানে
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ৰমতায়। আর যদি বিরোধী দলের আন্দোলন এবং চাপের
মুখে তা সম্ভব না হয় তাহলে আগামী দু\'টি নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের
মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত করবে। এখন প্রশ্ন হবে আগামী \"একটি নির্বাচন\"
তত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নয় কেন? \"দু\'টি নির্বাচনের রহস্য কোথায়?
সেখানেও আওয়ামী লীগের একটি কাঁচা হিসাব আছে। তাহলো- তারা ভাল করেই জানে
আগামী নির্বাচন যদি তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় তাহলে তারা কোন অবস্থাতেই
জয়ী হতে পারবেনা। এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। বিএনপির সেই ক্ষমতা চলাকালে নানা
তাল বাহনা করে জনজীবন দুর্বিসহ করে তুলবে এবং বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস
করে সেই তত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনে তারা জয়ী হবে। তাছাড়া আরো একটি বিযয়
প্রচলিত আছে, তাহলো- বিদেশী মুরুব্বীরা নাকি কোন সরকারকে একাধারে পরপর
ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সূতরাং বিএনপির পর আওয়ামী লীগ নির্ঘাত ক্ষমতায় এবং
তখনই তত্বাবধায়ক সরকারের দু\'টি নির্বাচন শেষ। সূতরাং নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক
সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। যতদিন না আমাদের রাজনৈতিক
দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা এবং ধৈযর্্য ধারণেনর ক্ষমতা অর্জিত হয়। প্রয়োজনে
নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু রাখার জন্য কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া
যেতে পারে। সেই বিষয়টি নিয়ে নিরপেৰ আন্দোলন সম্ভব নয় বলেই বিএনপি হরতাল শেষে
নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। অন্যদিকে সরকারও কম যায় না। হরতালের সময়
ব্যাপক সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করেছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, সরকার চেয়েছে
বিরোধী দলকে সত্দব্ধ করে দিতে। আর বিএনপি হলো ছাইয়ের আড়ালে চাপা আগুন। এই
আগুন থেকে বড় ধরনের দূর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে দিকটিও অবশ্যই সরকারকে খেয়াল
রাখতে হবে। কেননা, বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রধান বিরোধী
দল বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর চেষ্টা চলছে সরকারকে টেনে হিচওে মাটিতে
নামানোর। বিএনপি নেতারা বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সরকারি
ঘোষণা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলব্#২ে;৫৫৫; দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নির্যাতন, হামলা, মামলা ও অবৈধভাবে
মোবাইল কোটের্র মাধ্যমে বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া সত্বেও জনগণ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছ্#২ে;৫৫৫;'নির্যাতন, হামলা, মামলা ও
অবৈধভাবে মোবাইল কোটের্র মাধ্যমে বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া সত্বেও
জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
বাতিলের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিরোধী বিএনপি বিভিন্ন সময় হরতালের
ডাক দেয়্#২৫৫৫; জামায়াতে ইসলামীও এই হরতালে সমর্থন দিয়েছ্#২ে;৫৫৫; আর এই
আন্দোলনে নামায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক করা হয়েছে চাঁদপুরের
সংসদ সদস্য হারুনূর রশীদসহ অনেক নেতাকমর্ীক্#২ে;৫৫৫; সংবাদদাতারা বলছেন,
বিরোধী পিকেটারদের রাস্তায় নামতে দেয়া হয়নি্#২৫৫৫; ছোটখাটো মিছিল নিয়ে বের
হলেই পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছ্#২ে;৫৫৫; বিএনপি দাবী করছে, বিভিন্ন সময় তাদের
এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছ্#২ে;৫৫৫; মোবাইল কোর্টেও
কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দেওয়া হয়েছ্#২ে;৫৫৫; ঢাকার মিরপুরে তিনজনকে
গ্রেফতার করে তাদেরকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছ্#২ে;৫৫৫; পুলিশ বলছে,
গাড়িতে অগি্নসংযোগ করায় তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছ্#২ে;৫৫৫; এই হরতালের সময়
মোবাইল কোর্ট যতো সাজা দিয়েছে তার মধ্যে এই সাজাই সবচেয়ে বেশি মেয়াদের
কারাদণ্ড্#২৫৫৫; ভ্রাম্যমান আদালতে অন্তত ১৫০ জনকে সাজা দেওয়া হয়্#২৫৫৫;
সংবাদদাতারা বলছেন যে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে একশোরও বেশি পিকেটারকে
তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দেওয়া হয়েছ্#২ে;৫৫৫; হরতালকারীদের বিরুদ্ধে এই
প্রথমবারের মতো মোবাইল কোর্ট ব্যাবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছ্#২ে;৫৫৫;
সরকার বলছে, অপরাধীদের সামাল দিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার জন্যেই মোবাইল
কোর্ট তৎপর রয়েছ্#২ে;৫৫৫; বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা এই মোবাইল
কোর্ট ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালাব্#২ে;৫৫৫; হরতালে সাবেক দুই
মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়্#২৫৫৫;
এই হলো বাংলাদেশ যেখানে নতুন করে আর পুলিশকে বলে দিতে হয় না বিরোধী দলের
উপর নিযর্াতন চালাও। পুলিশ আগ বাড়িয়েই নেমে যায় নিযর্াতনের স্টিম রোলার নিয়ে।
যে কারনে চটেছেন খালেদা জিয়া। চটেছে বিরোধী দলের প্রতিটি নেতাকমর্ী। আর
সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত ইসলাম আর যুদ্ধাপরাধী চক্র। যে কারনের খালেদা জিয়া
বলার সাহস পেয়েছেন তত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন নয়। তিনি তত্বাবধায়ক সরকারের
অধীনে নির্বাচনসহ সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে মঙ্গলবার নয়া
পল্টনে চারদলীয় মহা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট,
১৮ অক্টোবর ঢাকা-রাজশাহী এবং ২৫ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চ কর্মসূচিও
দিয়েছেন খালেদা। বিভাগীয় ওই তিন শহরে রোডমাচের্র পরদিন সমাবেশ করবে বিএনপি।
নয়া পল্টনে দলীয় সমাবেশে ক্ষমতাসীন সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয়
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি
চেয়ারপার্সন খালেদা। গত ৩০ জুন সাংবিধানিকভাবে বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার
ব্যবস্থা। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যবস্থা বাতিল বলে রায় দেয়। জনসভায়
বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান- তারা কেমন
আছেন। সমস্বরে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা \'না\' বলে জবাব দেন। নয়া পল্টনের
জনসভায় আসার পথে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে
বাধা দিয়েছে অভিযোগ করে নিন্দা জানান খালেদা। \'দলীয় সরকারের অধীনে
নির্বাচন নয়\'। এমন কথা কয়েকবার-ই বিভিন্নভাবে বলেছেন তিনি। খালেদা জিয়া
বলেন , \"এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। পঞ্চদশ
সংশোধনী অবশ্যই বাতিল করতে হবে।\" তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের
লক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতা কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে-
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনর্বহাল, সংবিধানে ভোটের অধিকার
পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, ইলেক্ট্রনিক
ভোটিং পদ্ধতি বাতিল করা। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কী কী করবে তার একটি
ফিরিস্তিও তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। বিএনপির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে
তিনি বলেন, \"আমরা দুর্নীতি দূর করবো। শেয়ারবাজারকে ঠিক করা হবে। প্রশাসনে
দলীয়করণ বন্ধ করা হবে।\" বিএনপি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে
সংবিধানে সংশোধনী আনবে বলে সমাবেশে ঘোষণা দেন খালেদা। দ্রব্যমূল্য জনগণের
ক্রয় ক্ষমতায় আনারও আশ্বাস দেন তিনি। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহাজোট
সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন
অনুষ্ঠানের দাবিতে সারাদেশে জনমত গড়ে তুলতে সমাবেশে রোড মার্চের ঘোষণা দেন
খালেদা। তিনি বলেন, ১০ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে রোড মার্চের পরদিন সিলেট
জেলায় জনসভা হবে। ১৮ অক্টোবর রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চ হবে। সেদিন বগুড়ায়
এবং পরদিন রাজশাহী জেলায় জনসভা হবে। সর্বশেষ রোড মার্চ হবে ২৫ অক্টোবর। এটি
চট্টগ্রাম অভিমুখে শুরু হবে ঢাকা থেকে। সেদিন ফেনীতে জনসভা করে
রাত্রিযাপনের পরদিন সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রোড মার্চ শুরু করে সেখানে
জনসভা হবে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আগে খালেদা জিয়া তৎকালীন আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বাধীন ঐক্যমতের সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে চারটি রোড মার্চ করেছিলেন।
দেশের বর্তমান অবস্থাকে আওয়ামী লীগ শাসনামলের ১৯৭২-৭৫ সালের সঙ্গে তুলনা
করেন খালেদা। বর্তমান সরকারের আমলে দেশে ১৯৭২-৭৫ সালের মতো লুটপাট হচ্ছে।
বর্তমান সরকার লুটপাট করলেও তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না- এ দাবি করে বিএনপি
চেয়ারপার্সন বলেন, বিচার হবে কিভাবে। তারা বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে রেখেছে।
সেখানে গেলে আওয়ামী লীগ হলেই সব মাফ। বক্তব্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির
সমালোচনা করেন তিনি। চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো বৃহস্পতিবার জ্বালানির দাম
বাড়িয়েছে সরকার। তিন বছরে নতুন কোনো শিল্প স্থাপন হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান
গ্যাস বিদ্যুতের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অপরাধের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে বলেও
অভিযোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই \'শেয়ারমার্কেট ক্যু\' হয়,\"
মন্তব্য করে তিনি বলেন, এবার প্রায় ৩৪ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর হাজার
হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে। তারা টাকা দেশেও রাখেনি। সেই লুটের টাকা
ডলার-পাউন্ড কিনে বিদেশে পাচার করেছে। যার জন্য এখানে বিদেশি কারেন্সির দাম
বেড়ে গেছে। মানুষ এই অপকমের্র জন্য স্বাভাবিকভাবে ন্যায়বিচার আশা করে।
কিন্তু আজকে ন্যায়বিচার বলে কিছু নেই। প্রশাসনেও দলীয়করণ করা হয়েছে অভিযোগ
করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, \"৪৬০ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। কী অপরাধে ওরা
ওএসডি। এরা সিনিয়ির ভালো নিরপেক্ষ অফিসার। এরা আওয়ামী লীগের দালালি করে না
বলে ওএসডি করা হয়েছে। অবিলম্বের ওএসডি প্রত্যাহার করে প্রশাসনকে প্রশাসনকে
সচল করার দাবি জানান তিনি। \'তখন শান্তি কোথায় থাকে\' প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা দেশে \'অশান্তি সৃষ্টি\' করছেন বলে সমাবেশে মন্তব্য করেন খালেদা।
আপনি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে এখন বিশ্ব শান্তির মডেল দিচ্ছেন। এটা জনগণের
কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একটি রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার পর ৪০ হাজার মানুষ হত্যা
করেছে। তখন আপনার (শেখ হাসিনা) শান্তি প্রক্রিয়া কোথায় ছিলো। হরতালে সময়ে
বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আপনার শাসনামলে অনেক মানুষ
হত্যা-গুম করা হয়েছে। তখন এই শান্তি প্রক্রিয়া কোথায় থাকে? এমন প্রশ্নবোধক
আগামীর মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই না। কারন, একটি সোনার বাংলাদেশ
নিমার্ণের স্বপ্ন নিয়ে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছিল। কোন ৰমতালোভি বিধাব নারীর
সম্পদে পরিনত হওয়ার লৰে নয়। বাসত্দবে দেখা যাচ্ছে চলছে সেই ৰমতার
রাসত্দাতেই চলছে চলাচল। এই চলাচলের কারনে সংগঠিত হতে পারছে জামায়াত ইসলামের
আড়ালে ঘুপটি মেরে থাকা যুদ্ধাপরাধী চক্র। সেই দিকে খেয়াল না রেখে
প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে উচ্চারণ করেছেন, দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন।
শুধু এখানেই শেষ নয়; শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, দলীয়
সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে 'মিট
দ্য প্রেস\' অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে চায়নি। কিন্তু হাইকোর্ট
তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, 'উচ্চ আদালত
যাকে অবৈধ রায় দিয়েছে আমরা তাকে কিভাবে বৈধ করবো?\' তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া
বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে খালেদা জিয়ার মন্তব্য সম্পর্কে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সময় আসলে দেশে নির্বাচন হবে এবং ওই নির্বাচনে সকল দল
অংশ নেবে।\' তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকার কখনো
নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করে না। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে দল ক্ষমতায়
আসবে। দেশে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে
বসার প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর এখন
একটাই দাবি তার দুর্নীতিগ্রস্ত ছেলেদের মুক্তি। সেইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের
বিচার বন্ধ ও দুর্নীতি ও বিদেশে অবৈধভাবে অর্থপাচারের মামলা প্রত্যাহার।
তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্যও অভিন্ন। তাই তাদের সঙ্গে বৈঠকে কোনো সুফল পাওয়া
যাবে বলে আমি মনে করি না। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন 'তাহলে কি কোনো
রাজনৈতিক শক্তির অবৈধ স্বার্থে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না?
দুর্নীতিবাজরা ছাড়া পাবে? গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যাকারীদের বিচারের
কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না? এতিমদের টাকা মেরে খাওয়ার কোনো প্রতিকার হবে
না ? তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে অবস্থান ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন,
'এ ধরনের একটি সরকারের জন্য আমরাই প্রথম আন্দোলন করেছি। বিএনপি তা চায়নি।
তাদের মতে পাগল ও শিশু ছাড়া দেশে কোনো নিরপেক্ষ লোক নেই। তারপর বাধ্য হয়ে
মধ্যরাতে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করেছিল।\' পরবর্তীতে
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী
বলেন, '২০০১ সালে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করি। কিন্তু
বিচারপতি লতিফুর রহমান শপথ গ্রহণের আধ ঘণ্টার মধ্যেই ১৩ জন সচিবকে
চাকরিচ্যুত করেন। তখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ
পর্যন্ত হয়নি বা কেবিনেটের কোনো বৈঠকও হয়নি। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের অধীনে নির্বাচনে আমরা ভোট পেলাম বেশি কিন্তু আসন পেলাম কম। ২০০৭
সালেও বিএনপি নিজের করা আইন ভঙ্গ করে রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল কুশীলবই ছিল
বিএনপির সৃষ্টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ভেবেছিল তাদের দিয়ে লুন্ঠিত
অর্থপাচার সম্ভব হবে। তারা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগেও অভ্যুত্থান ঘটানোর
চেষ্টা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে
বিদেশের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হয়নি বলে তার দলকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া
হয়নি। তিনি বলেন,'ক্ষমতার লোভে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার রাজনীতি শেখ
হাসিনা করে না\'। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর এরমধ্যে আওয়ামী
লীগের ক্ষমতাকাল মাত্র ১০/১১ বছর। দেশের উন্নতি এবং মানুষের কল্যাণ যা হয়েছে
তা আওয়ামী লীগের আমলেই হয়েছে। সরকার পরিচালনার নামে অন্যরা দেশের সম্পদ
লুটেপুটে খেয়েছে। তার সরকার বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-নিউইর্য়ক ফ্লাইট পুনরায়
চালু করায় জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২/১টি হরতাল দিয়ে বিরোধীদল
সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না-এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের
জনগণ দুর্নীতিবাজদের পক্ষে দাঁড়াবে না। কাজেই তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি
বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে গণতন্ত্রের
দুরাবস্থার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২০০১ সালে একমাত্র আমরাই
শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলাম। আর কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায়
গিয়ে বিএনপি ২০০১ সালে দেশে যে নৈরাজ্য করেছে তা সকলেই জানে। তারপরও তারা
কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা আকঁড়ে থাকতে চেয়েছিল। তাদের সেই ক্ষমতালিপ্সার
কারণে ১/১১ সৃষ্টি হয়েছে।\' তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকার বাংলাদেশকে
একটি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদের ব্যাপারে
'জিরো টলারেন্স\' নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আন্দোলনের নামে জনগণকে কষ্ট না
দেয়ার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা ১/১১-এর পরবর্তী ঘটনাবলী
তুলে ধরে বলেন, এবারো অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার
ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে এ অধিকার ছিনিয়ে নিতে
না পারে সে জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। অধিকার মানেই ৰমতা। আর এই ৰমতার
রঙধনু দেখে পাগলপ্রায় হয়ে যাওয়া বিএনপি বা আওয়ামী লীগের প্রধান দুই নেত্রীর
পাশাপাশি নেতাকমর্ীদের এমন কর্মকান্ড জনগনের প্রত্যাশাতো নয়-ই; বরং তারা
চায় ৰমতার লোভহীন একজন দৰ নেতা। যার নেতৃত্বে কোন ৰুদ থাকবে না, থাকবেনা
তার মন্ত্রনালয়ে কম খাওয়া-বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া মন্ত্রী, থাকবে না
আলস্নাহর মাল আলস্নাহয় নিয়ে গেছে বলার মত অযোগ্য অদৰ মন্ত্রী বা এমপি।
email:
mominmahadi@gmail.com |
|