প্রথমপাতা  

সাম্প্রতিক সংবাদ 

 স্বদেশ

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ কমিউনিটি

লাইফ স্টাইল

এক্সক্লুসিভ

বিনোদন

স্বাস্থ্য

বর্তমানের কথামালা

 শিল্প-সাহিত্য

 প্রবাসপঞ্জী 

আর্কাইভ

যোগাযোগ

 

 

 

 

 

টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসঃ জাতীয় উৎসবে উপেক্ষিত সাধারণ প্রবাসীরা

 

 

 

এস রহমান

গত ৩০ ডিসেম্বর টোকিও'র বাংলাদেশ দূতাবাসে ছিলো বিজয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান। দূতাবাস তার নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে বরাবরের মতো আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলো। আমন্ত্রিতরা কারা? এদের অন্ততঃ ৮০% হচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা, বাকি ২০% হচ্ছেন এক শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ যারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেন, পুরস্কারসরূপ দূতাবাস তাদেরকে নিমন্ত্রণ করে থাকে।

আর সাধারণ প্রবাসীরা? প্রবাসে জাতীয় উৎসব তো যেন এসব রাজনীতিবিদদের জন্যেই, তারা এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ প্রবাসীরা এ সব অনুষ্ঠানের কথা জানতেও পারেন না। দূতাবাসেরও এ নিয়ে নেই কোনো মাথা ব্যাথা। তারা চিরচেনা ব্যক্তিদেরকে তোষামোদ করে নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখেন।

২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ বা ১৬ই ডিসেম্বর দূতাবাসের সব অনুষ্ঠানেই এরা দাওয়াত পান, এরা দূতাবাসে এসে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানে নিজেদের মধ্যে মারামারি করেন, জিনিসপত্র নষ্ট করেন -এগুলোও আজকাল অনুষ্ঠানের অঙ্গে পরিণত হয়ে গেছে। গত ৩০ ডিসেম্বরও এর ব্যতিক্রম ছিলো না। আগামী অনুষ্ঠানেও এর যে কোনো ব্যতিক্রম হবে না তাও বলে দেয়া যায়।

সেদিন একটি অনুষ্ঠানে কথা হচ্ছিলো কানাগাওয়া প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর সাথে। তিনি জানালেন জাপান থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের অন্যতম বৃহৎ অংশটি যায় কানাগাওয়া'র সাগামিহারা-এবিনা-আৎসুগি ইত্যাদি শহর গুলো থেকে। জাপানে বিদেশি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি গুলোর মধ্যে বাংলাদেশিরা ২য় বা ৩য় অবস্থানে রয়েছেন এদের প্রায় শতভাগ এই কানাগাওয়া অঞ্চলের বাসিন্দা। রয়েছেন প্রচুর গাড়ি ব্যবসায়ী, এ ছাড়া অন্যান্য ব্যবসাও করছেন আরো অনেকে। একক ভাবে এ অঞ্চলটি র্যা মিট্যান্সের প্রধানতম উৎসের একটি। এখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যাও কয়েকশ'।

এখান থেকে দূতাবাস তাদের গত অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করেছেন হাতে গোনা ৪/৫ জনকে। এখানকার অন্যতম বৃহৎ একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রধানকে দূতাবাসের কর্মকর্তা বললেন, "আপনাদের ওখান থেকে তো দু'জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে"। মনে হলো যেন বিরাট একটা উপকার করে ফেলেছেন তারা।

আনুপাতিক হিসেব করলে নিঃসন্দেহে খুবই স্পষ্ট হবে যে কীভাবে কানাগাওয়া'র প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে দূতাবাস অসাধু প্রক্রিয়ায় উপেক্ষা করে চলেছে। এর পেছনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, দূতাবাস কর্মকর্তাদের যোগসাজোশ সবই রয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এমন ভান করছেন যেন তারা বিষয়টি ঠিক মতো উপলব্ধি করতে পারছেন না। কিন্তু সত্যটা সকলেই জানেন।

একজন জাপানি হলে এই প্রশ্নটাই করতেন, আমাদের কষ্টের অর্থে বেতন পান দূতাবাসের কর্মীরা। তারা কিসের ভিত্তিতে নিজেদের ইচ্ছেমতন তালিকা তৈরি করে আমন্ত্রণ জানান? কেন দূতাবাস কেবল রাজনৈতিক আর সুসম্পর্কের বিবেচনায় আমন্ত্রণ পত্র তৈরি করবে? কেন সাধারণ মানুষ অনামন্ত্রিত? কেন দেশের জন্যে অধিক ভূমিকা রাখা মানুষদেরকে প্রভাব খাটিয়ে অসম্মান করা হবে?

সরকারি হিসেবে জাপানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১০ হাজারের মতো। দূতাবাসের অবিবেচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দূতাবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মারামারি, হানাহানি করেও চিরচেনা টোকিও-সাইতামা ভিত্তিক শ'দেড়েক লোককেই ঘুরেফিরে দূতাবাস আমন্ত্রণ জানায়। এর বাইরে সাধারণ প্রবাসীরা সেখানে আমন্ত্রণ পান না।

অন্ততঃ দেশের জাতীয় উৎসব গুলোকেও কি রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বাইরে রাখাটা কঠিন? প্রয়োজন পড়লে বাইরে হল ভাড়া নিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের জন্য উন্মুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিতে পারে দূতাবাস। সদিচ্ছা থাকলে দূতাবাস অনেক কিছুই করতে পারে, প্রশ্নটা হলো তারা সেই সদিচ্ছার প্রকাশ করবেন নাকি সেই চিরচেনা লোকদেরই লেজুড়বৃত্তি করবেন তা বিবেচনা করার ভার তাদেরই।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action। 

 

 

[প্রথমপাতা]