প্রথমপাতা  

সাম্প্রতিক সংবাদ 

 স্বদেশ

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ কমিউনিটি

লাইফ স্টাইল

এক্সক্লুসিভ

বিনোদন

স্বাস্থ্য

বর্তমানের কথামালা

 শিল্প-সাহিত্য

 প্রবাসপঞ্জী 

আর্কাইভ

যোগাযোগ

 

 

 

(মতামত সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব)

 

 

রাহমান মনি                                          

 

 

নিয়ম জেনেও না মানার প্রবনতা বন্ধ হওয়াটা জরুরী

 

 

 

নিয়ম না মানার জন্য যদি আন্তর্জাতিক কোন প্রতিযোগিতা থেকে থাকতো তাহলে, নিঃসন্দেহে জাতি হিসেবে বাঙ্গালি এবং দেশে হিসেবে বাংলাদেশের নামটি যে শীর্ষে থাকতো, এব্যাপারে কারোর সন্দেহের কোন অবকাশ যে নেই এই কথাটি নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বাংলাদেশের সংবিধান যেমন বিশ্বের অন্যতম সংবিধান গুলির মধ্যে একটি তেমনি বাংলাদেশের আইন বিশ্বের কঠিনতম আইনগুলির মধ্যে অন্যতম। কিন্তু , আইন না মানার কারনে বা প্রয়োগের অভাবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার প্রায়শই অবনতি ঘটে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তাই বলে কি প্রবাসেও ? তাও আবার জাপানের মতো দেশে ?

জাপানের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী নেই। কেবল মাত্র পুলিশ বাহিনীই পুরো জাপানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। তার অন্যতম কারন হলো জাপানে আইনের যেমন প্রয়োগ রয়েছে তেমনি রয়েছে আইন মানার প্রবনতা বা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা।

এখানে রাত ৩টার সময়ও ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলে গাড়ি না থাকা সত্বেও।

জাপানে যে সমস্ত প্রবাসীরা গাড়ি চালনা করে থাকেন, তাদের সকলেই গাড়ি চালনার জন্য জাপানের ট্রাফিক আইন জেনে এবং মানার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে চালক সনদ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে থাকেন। জাপানী কোন আয়োজন সহ সকল ক্ষেত্রেই তারা তা মানেনও ।

কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় প্রবাসীদের দ্বারা কোন আয়োজনে। এখানে তারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননা ( ঢালাও ভাবে দোষারোপ করছি না )। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা তারই নামান্তর।

আর এই পার্কিং ঝামেলা নিয়ে অনুষ্ঠানের ছন্দ পতন সহ বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় আয়োজকদের। যত্রতত্র পার্কিং নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বারবার আপত্তি এবং অনুষ্ঠান থামিয়ে অনুরোধ জানিয়ে বারবার ঘোষণা দেয়া সত্বেও পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নতি হয় বলে পরিলক্ষিত হয় না। আর এতে করে পরবর্তীতে হল পেতে যেমন বিপত্তি ঘটে তেমনি প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। অথচ সঠিক নিয়ম মানার সামান্য সচেতনতাই কেবল সব ধরনের বিড়ম্বনা থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠান ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন বিড়ম্বনা। অনুষ্ঠানে এসে অনুষ্ঠান স্থলে থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ না করে হলের বাহিরে বিভিন্ন আড্ডায় মেতে থাকা সহ হলের নিয়ম না মেনে অর্থাৎ পানাহার নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও পানাহার করা, ধূমপান নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান করা, হল পূর্বাবস্থায় সঠিকভাবে ফিরিয়ে না দেয়া , পরবর্তীতে হল পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বিড়ম্বনা। এক্ষেত্রে আয়োজকদের ব্যর্থতায় সময়মতো অনুষ্ঠান শুরু এবং সঠিক সময় শেষ করতে না পারার ব্যর্থতা কম দায়ী নয়।

অনুষ্ঠান বা সভা সময় মতো শুরু করতে না পারার অন্যতম কারন হচ্ছে , সময় না মেনে বিলম্বে আগতদের মুল্যায়ন করা। তাদের জন্য অপেক্ষা করা । আর এই মুল্যায়ন করতে গিয়ে যে , সময় মতো আগ্রতদের অবমুল্যায়ন করার কথা আয়োজকরা বেমালুম ভুলে যান । । যেহেতু সময় মতো শুরু করা হয় না তাই , স্বাভাবিক ভাবেই সময় মতো শেষও করা হয়ে উঠেনা ।

জাপানে প্রবাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের সংখ্যা বেশী হওয়ায় জ্যামিতিক হারে অনুষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। অনুষ্ঠানের স্বার্থে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আলোচনা সভা বা শুভেচ্ছা বক্তব্য পর্ব থাকে।

আর এই বক্তব্য পর্বের শ্রীবৃদ্ধিতে একটি মঞ্চ থেকে থাকে। আর সে মঞ্চে উপবিষ্ট হন সমাজের এলিট শ্রেনী কিংবা সংগঠনের কর্তা গোছের ব্যক্তিরা আসন অলংকৃত করে থাকেন।

কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, ওইসব শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ তাদের অলংকৃত আসনগুলোর প্রতি সন্মান কতোটা রাখতে সক্ষম তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। যেহেতু ঘটনাগুলো জাপান প্রবাস জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে তাই, মঞ্চে যারা আরোহণ করেন তাদের সবার-ই জাপানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই রয়েছে।

তারা সবাই জানেন, জাপানী অনুষ্ঠানগুলোতে কিছু নিয়ম মানতে হয়। বিশেষ করে মঞ্চে যারা উপবিষ্ট হন। তার মধ্যে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা অন্যতম।

কিন্তু, আমাদের শ্রদ্ধেয়জনদের অনেকেই মঞ্চে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার তো করেন-ই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধমে আপলোড , লাইভ প্রচার করা , সব কিছুই করে থাকেন।

নিয়ম না মানার প্রবণতারগুলোর মধ্যে অতি প্রচারও কম নয় ।

জাপানের হলগুলোর নিয়ম হচ্ছে আসন সমৃদ্ধ হলগুলোয় নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের কম ছাড়া একজনও বেশী হলে হল বরাদ্ধ দেয়া হয় না । আর আসন সমৃদ্ধ বা নির্দিষ্ট না থাকলে সেখানে মোট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ আসন পাতা সম্ভব হয়ে থাকে। অর্থাৎ ১২০ জনের হল হলে চেয়ার টেবিল দিলে সর্বোচ্চ ৮০জন কে স্থান দেয়া সম্ভব।

সেখানে , মোট ৯৬ (৬৬+৩০) জনের দু'টি ৬০০/৭০০ লোক একসাথে আপ্যায়ন করানোর প্রচার অতিপ্রচার ছাড়া অন্যকিছু ভাবা কি সম্ভব ? আর , তর্কের স্বার্থে যদি মেনেই নেয়া হয় তাহলে প্রশ্ন জাগে , এরপরও কি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হল বরাদ্ধ না দেয়াটা কি খুব বেশী অন্যায় হবে ?

জাপানের হল গুলিতে যে কোন আয়োজনে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা থাকে। ওই সময়ের মধ্যেই সব কিছু শেষ করে হল বুঝিয়ে দেয়ার নিয়ম। কিন্তু প্রবাসীদের আয়োজনে সে নিয়ম মানা হচ্ছে কি ?

দেখা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আয়োজকদের কেহ কেহ হল গুছানোয় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন । আবার কেহবা আড্ডায় মেতে কিংবা ছবি তোলায় পোজ দিতে ব্যস্ত রয়েছেন। আর, অতিথিদের কথা না বলাই ভালো। তাদের কোন কাজ না থাকলেও কেনো জানি হল ছাড়তে চান না। হয়তোবা কিছুক্ষন ব্যবহারের কারনে হলের প্রতি মায়া-টা ত্যাগ করতে চান না ।

আবার, হল নেয়ার সময় কি কাজে ব্যবহার করা হবে তা জানাতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এইটাই নিয়ম । কিন্তু, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন কোন সংগঠন ,বা দল ( আয়োজক সংগঠন এর বাহিরের ) তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাজগুলোও সেরে নিতে চান। এটাকে কি সাবলেট , নাকি পরিযাজক বা অনভিপ্রেত বলবো বাংলা পিডিয়া তন্ন তন্ন করে খুঁজেও আভিধানিক কোন শব্দ/প্রতিশব্দ পাওয়া যায়নি। অনুচিত হওয়া সত্বেও কাজগুলি হচ্ছে এটাই সত্য ।

মোদ্দা কথা হচ্ছে আমরা সব ক্ষেত্রে নিয়ম জেনেও তা মানছি না ।



rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

 

 

 

 

ARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. 

[প্রথমপাতা]