|
কিয়োতো থেকে নিখোঁজ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তাঁরা
পালা করে অনুসন্ধান চালাবেন
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
৫ এপ্রিল পর্যন্ত
নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ দিনেরও বেশি সময় কেটে গেছে এবং পুলিশ, দমকলকর্মী,
আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্যরা তাদের জোরদার অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন কিন্তু
কোথাও খোঁজ মেলেনি কিয়োতোতে নিরুদ্দেশ হওয়া ১১ বছর বয়সী প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের ছাত্র ইউকি আদাচি'র।
পুরো সম্প্রদায়ের
মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, আদাচির আত্মীয়রা, অধীর আগ্রহে তার ফিরে আসার
অপেক্ষায় আছেন।
এফএনএন'র একটি রিপোর্টিং টিম প্রাথমিক
বিদ্যালয়টির কাছের একটি পার্ক পরিদর্শন করে।
বসন্তের ছুটি থাকা
সত্ত্বেও পার্কে কোনো বাচ্চা খেলছিল না। আশেপাশের পার্কগুলিতেও একই অবস্থা।
দুই ও তিন বছর বয়সী
দুটি সন্তানের এক মা সাক্ষাৎকারে বলেনঃ
আজ এখানে বাচ্চা কম
আছে। সাধারণত আরও অনেক বেশি থাকে।
আপনি কি খুব বেশি বাইরে
যাওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন? - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ,
ব্যাপারটা একটু ভয়ের।
পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত
হওয়ায় এলাকার ছোট বাচ্চাদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জুনিয়র হাই স্কুলের
প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া এক ছাত্রের মা বললেনঃ সে কেন নিখোঁজ হয়েছে সে
সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। এমন সম্ভাবনা আছে যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। আমি
আমার সন্তানকে বাইরে যেতে দিতে ভয় পাচ্ছি, তাই তাকে যতটা সম্ভব বাড়িতেই
রাখছি।
নানতান শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ৮ তারিখে
নতুন শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
একজন ছাত্রের মা জানানঃ আমার ছেলে একই সোনোবে স্কুলের ছাত্র। আমরা এখন ওকে
একা বাইরে যেতে বারণ করছি।
প্রশ্ন: স্কুল থেকে কি
আপনাদের সাথে কোনো বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে?
-ওরা শুধু আমাদের
সাবধানে থাকতে বলেছে।
এদিকে, জানা গেছে আদাচি
নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার
ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে অভিভাবকদের কাছে একটি বার্তা
পাঠিয়েছিল।
স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের অপর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়ার
জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেছে, "এই ক্ষেত্রে, ইউকি আদাচির অনুপস্থিতির বিষয়ে
অবগত থাকা সত্ত্বেও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে বিলম্ব হয়েছিল।"
এছাড়াও, তারা
জানিয়েছেন আদাচিকে খুঁজে বের করার জন্য তারা সাধ্যমত সবকিছু করবেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
এক ছাত্রের মা বলেনঃ আমি আশা করি আদাচি-কে শীঘ্রই খুঁজে পাওয়া যাবে।
২৩শে মার্চ সকাল ৮টার
দিকে আদাচি'কে তার বাবার গাড়িতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে নামিয়ে
দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে স্কুলে যায়নি এবং তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে
না।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দারা আদাচির দাদিকে তল্লাশি
অভিযানে অংশ নিতে দেখেছিলেন।
এক প্রতিবেশী বলেন,
"বৃদ্ধাটি মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন, খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তিনি
প্রায় কেঁদে ফেলে বলছিলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি আরও কোনো সূত্র থাকে, দয়া
করে সেগুলো খুঁজে দেখুন।'"
আদাচির এক পুরুষ
আত্মীয় বলেন, "যখনই আমাদের কেউ কাজের ফাঁকে সুযোগ পায়, তখনই আত্মীয়রা
পালা করে খোঁজাখুঁজি করে। আমিও এই অনুসন্ধানে যোগ দিয়েছি।" আদাচির চরিত্র
সম্পর্কে তিনি বলেন, "ইউকি-কুন একজন মেধাবী এবং খুব ভালো ছেলে। আমি আশা করি
তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে পাওয়া যাবে।"
এরপর, ৩ তারিখ দুপুর
১টার দিকে যে গিরিপথের প্রবেশপথের নিকট আদাচির স্কুল ব্যাগটি পাওয়া
গিয়েছিল, সেই গিরিপথের কাছের একটি পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়।
ডুবো ড্রোন ও অন্যান্য
সরঞ্জাম ব্যবহার করে পুকুরটির ভেতরে এই প্রথমবার তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
মনে হচ্ছে, তাঁবুর
ভেতরে থাকা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা মনিটর করছেন এবং ডুবো
ড্রোন দ্বারা ধারণ করা ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন।
পুকুরটিতে গিয়ে মেশা
ঝর্ণাটির চারপাশেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
এই পুকুরটির সংলগ্ন
গিরিপথের পাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে আদাচির হলুদ স্কুল ব্যাগটি পাওয়া যায়।
এই ধরনের ব্যাকপ্যাক,
যাকে 'রানদোসেরুরিউক্কুস্যাকু' বলা হয়, তাতে স্কুল স্যাচেল এবং সাধারণ
ব্যাকপ্যাক উভয়ের বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
একটি উজ্জ্বল হলুদ
স্কুল ব্যাগ এমনকি স্বল্প আলোকিত পাহাড়ি পথেও সহজেই চোখে পড়ে।
কিন্তু অন্যদিকে,
রেলিংয়ের আড়ালে লুকানো একটি স্কুল ব্যাকপ্যাক খুঁজে বের করা খুব কঠিন হতে
পারে।
আদাচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো জোরালো সূত্র না
থাকায় পুলিশ জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন জানাচ্ছে। এফএনএন।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|