|
জার্মান ভিলেজে একদিন
বদরুল
বোরহান
সুদীর্ঘ বাইশ বছর টোকিওতে অবস্থান শেষে ২০১১ সালের নভেম্বরে দেশে ফিরে
গিয়েছিলাম। আড়াই বছর দেশে থেকে ৩রা মে ২০১৪ আবার টোকিওতে আসি প্রবাস
প্রজন্মের ৬ষ্ঠ মিলন মেলায় আমন্ত্রিত হয়ে। বরেণ্য সংগীত শিল্পী বারি
সিদ্দিকী ও সুবির নন্দী সহ আমাকে সম্মাননা প্রধান করা হয়। এজন্যে প্রবাস
প্রজন্ম ও টোকিও প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি আমি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ।
বলাবাহুল্য বারি সিদ্দিকী এবং সুবির নন্দী আমাদের সংগীত জগতের দুই নক্ষত্র।
সে তুলনালায় আমি অতি নগণ্য একজন সাহিত্য কর্মী। তাঁদের সাথে আমাকে একই
দাড়িপাল্লায় আমাকে কোনো মূর্খও ভাববে না। তথাপি এই আমি তাদের সংগে সম্মানিত
হয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরব বোধ করছি। টোকিও প্রবাসী সকল বাঙালিদের প্রতি
আমার বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।
টোকিওতে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমার পূনর্বার টোকিও আগমন উপলক্ষ্যে কোথাও
বেড়াতে যাওয়ার মনস্থ করে। প্রতি উইক এন্ডে তাদের সাথে নির্ভেজাল আড্ডা হতো
মাঝ রাত অব্দি। অবশেষে শেষ ট্রেনের যাত্রী হয়ে বাসায় ফেরা। প্রায় অবধারিত ও
নিয়মিত এই আড্ডার সদস্যরা হলো- কাজি ইনসান, জুয়েল আহসান কামরুল, হুসাইন
মুনির, গোলাম মাসুম, কবি মিল্টন ও আমি বদরুল বোরহান। হারুন ভাই ও তুহিন
ব্যস্ততার জন্যে সংগী হতে পারেনি। বাকের মাহমুদ দূরে থাকেন। আরেক জনকে খুব
মিস করেছি, সে হলো সজল বড়ুয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আর এবার
আমাদের সাথে সংযোজিত হলেন- আবৃত্তি উপযোগী কন্ঠের অধিকারী কমল বড়ুয়া।
গত ১৮ মে রোববার আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম- "জার্মান ভিলেজ" এর উদ্দেশ্যে।
বলাবাহুল্য, জার্মান ভিলেজ জার্মানির কোনো গ্রাম নয়। জাপানের চিবা
প্রিফেকচারের একটি গ্রামের নাম। জাপানি ভাষায় "দোইৎসু মুরা"।
বিশাল জায়গা জুড়ে সুদৃশ্য লেক, পোলট্রি ফার্ম এবং নান্দনিক রোঁস্তরা গুলো
জার্মান আদলে তৈরি। ছোটখাটো টিলায় ঘেরা মনোরম জায়গাটি নিঃসন্দেহে পরিবেশ
বান্ধব। অসংখ্য ফুলের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায়। শিশুদের জন্যে রয়েছে
নাগরদোলা সহ বেশ কিছু খেলার ইভেন্ট। রয়েছে গলফ কোর্ট। ছোটদের পাশাপাশি
বড়রাও ভালো লাগার জায়গা।
ইকেবুকুরো স্টেশন ট্রেনে বা বাসে প্রায় ঘন্টা দেড়েকের মত সময় লাগে।
জাপানিদের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যক বিদেশিদের সমাগম হয়ে থাকে। নরম
দুর্বাঘাসের সবুজ গালিচা দু'হাত প্রসারিত করে সাদরে সম্ভাষণ জানায়। লেকে
স্বচ্ছ টলটলে পানি আর তাদে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার মাছের জলকেলি। হংসসদৃশ
নৌকা গুলোর রয়েছে লেকে ভেসে বেড়ানোর চমকপ্রদ ব্যবস্থা। পাশাপাশি রেস্তরা
গুলোতে রয়েছে সুস্বাদু খাবার বাহারি আয়োজন। জাপানি খাবারের পাশাপাশি ইতালিয়
পিৎসা, পাস্তা এবং পিকনিক আমেজে বার্বিকিউয়ের সুব্যবস্থা। সব মিলিয়ে ছুটির
দিনে চুটিয়ে আড্ডা কিম্বা ঘুরে বেড়ানো অনিন্দ্য সুন্দর জায়গায় এই জার্মান
ভিলেজ।
জুয়েল আহসান কামরুলের উদ্যোগে জার্মান ভিলেজে পুরোটা দিন আনন্দে মেতে রাতে
বাসায় ফিরি একরাশ ভালো লাগার অনুভুতি নিয়ে। বন্ধুরা তোমাদের সবাইকে আন্তরিক
ধন্যবাদ। চমৎকার একটি দিন উপহার দেয়ার জন্যে। আর হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি,
একবার ঘুরে আসুন না প্রিয়জনদের সংগে জার্মান ভিলেজে, মাইরি বলছি মন্দ লাগবে
না।
bodrulborhan71@gmail.com
ARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা] |
লেখকের আগের লেখাঃ
|