প্রথমপাতা  |  প্রকাশের তারিখঃ 月曜日, 4月 13, 2026 17:27 |

 

হাজার হাজার প্রবাসীদের পদচারণায় মুখরিত জাপানের বৈশাখী মেলা

 

 

কমিউনিটি রিপোর্ট ।।

রোববার ১২ এপ্রিল জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের মিসাতো সিটির নিওদোরি কোয়েন লিটপিটিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বৈশাখী মেলা। বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে এ বছরের আয়োজনে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা প্রবাসীদের ঢল নামে।

চমৎকার একটি রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। হঠাৎ গরম পড়লেও তাতে মানুষের আনন্দের ব্যত্যয় ঘটাতে পারেনি। মেলার মাঠে ছিলো সারিবদ্ধ অনেক স্টল। দেশীয় খাবার, কাপড়চোপড় সহ বিভিন্ন ধরণের স্টলে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন উদ্যোগতারা।

প্রবাসী ভাবীদের দেওয়া বিভিন্ন স্টলগুলিও ছিলো আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে চটপটি-ফুচকার মত করে বিক্রি হচ্ছিলো ঝালমুড়িও। মেয়েদের হাতে মেয়েদী দেওয়ার স্টলও স্থান পায়।

কামরুল হাসান লিপুর তত্বাবধানে মেলায় বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। অনেক প্রবাসী বিশেষ করে মহিলারা হর্ষোৎফুল্ল স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাতে অংশ নেন।

বেলা গড়াতে না গড়াতেই মেলার মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বৈশাখী মেলা ফিরে পায় তার চিরচেনা রূপ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যে রূপটি প্রায় হারাতে বসেছিলো। সব পুরোনো-পরিচিতদের সাথে আবারও বহুদিন পর মানুষের দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ মেলে। শুধু টোকিও ও তার সংলগ্ন কানতো অঞ্চল থেকেই নয় আইচি, নাগানো, নিগাতার মত শত শত কিলোমিটার দূর থেকে মানুষজন ছুটে আসেন এই মহোৎসবে। অনেকে মেলার মাঠের ফাঁকা স্থানে ব্লুশিট বিছিয়ে সবকিছু উপভোগ করতে থাকেন। কেউ কেউ আবার বাড়ি থেকেও খাবার এনে পিকনিকের আমেজে দিন কাটান।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিলো দেশ থেকে উড়ে আসা দুই শিল্পি আঁখি আলমগীর এবং আরেফিন রুমির গানগুলি। সমবেত দর্শকরা নেচেগেয়ে তাদের সাথে তাল মেলান। সন্ধ্যার পরও চলতে থাকে মানুষের আনন্দোৎসব।

"মেলায় যায়রে..." গানটির মধ্যে দিয়ে সবাই ধীরে ধীরে বাড়ির পথে পা বাড়ান। এমন ভরপুর আয়োজনের জন্যে মেলা কমিটি অবশ্যই ধন্যবাদ প্রত্যাশা করেন। মার্জিত একটি পরিবেশে হাজার হাজার মানুষের সমাগমকে পরিচিত ধারায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে পুরোনোদের অনেকেই প্রশংসা করেন।

তবে আমরা এখনও যে সভ্যজগতের মানানসই হতে পারিনি তার পরিচয়টাও নিশ্চয়ই জাপানিরা পেয়ে গেছেন। আশেপাশে ময়লার স্তুপ তৈরি করে ফেলেছেন। কনভেনিয়েন্স স্টোরের টয়লেটগুলি অবর্ণনীয় রকমের ময়লা করে ফেলেন। মেলার উদ্যোগতাদের অন্যতম বাদল চাকলাদারের জাপানি স্ত্রী কাজুমি'কে কনভেনিয়েন্স স্টোরগুলিতে গিয়ে পরিস্কার করে আসতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার যেই সেই। বাইরে আধপোড়া সিটারেটের টুকরোর স্তুপ। জাপান পুলিশকে এইসব দৃশ্যাবলীর ছবি তুলে নিতে দেখা যায়। জাপান সরকার বিদেশিদের প্রতি ক্রমেই বিরূপ হয়ে উঠছে অথচ তার মধ্যেও আমাদের কোনও বিকার নেই।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 

[প্রথমপাতা]