প্রথমপাতা  |  প্রকাশের তারিখঃ 金曜日, 8月 14, 2026 16:52 |

 

আজ শোকাবহ ১৫ আগষ্ট

 

 

 

কমিউনিটি রিপোর্ট ।।

আজ ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকাবহ ও কলঙ্কময় দিন। ১৯৭৫ সালের এই কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

স্বাধীন বাংলাদেশের মহানায়ক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘাতকের বুলেটে শাহাদাত বরণ করেন।

সেদিন তিনি ছাড়াও নিহত হন তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। এছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ নিহত হন আরো ১৬ জন। ১৫ আগস্ট নিহত মুজিব পরিবারের সদস্যবৃন্দ হলেন: ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু পুত্র শেখ রাসেল; পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল; ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি। মুজিবের জীবন বাঁচাতে ছুটে আসেন কর্নেল জামিলউদ্দীন আহমেদ, তিনিও তখন নিহত হন। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তার ছোটবোন শেখ রেহানা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যাকাণ্ড স্মরণে শোক দিবস পালন করা হয়। এটি ১৯৭৬ সাল থেকে পালন শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ সালে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এ দিন সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। জাতীয় শোক দিবস উদ্‌যাপনে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হতো।

২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার এই দিনের সাধারণ ছুটি বাতিল ঘোষণা করে। এরপর ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ সরকার এই দিবসটি জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে পরিপত্র জারি করে।

ঐতিহাসিক ক্ষত: এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারকে ধ্বংস করেনি, বরং সদ্য স্বাধীন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

সমাজবিজ্ঞানী হাসানুজ্জামান চৌধুরী এক লেখায় লিখেন যে, বিএনপি নেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগকে অবজ্ঞা করতে এবং দিবসটিকে উপহাস করতে তার জন্মদিন পরিবর্তন করে ১৫ই আগস্ট করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ে ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই হত্যাকারীদের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ৬ জনের, ১. কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান (২০১০ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর)২. লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান (২০১০ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর)৩. লে. কর্নেল (অব.) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) (২০১০ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর)৪. মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) (২০১০ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর)৫. মেজর (অব.) বজলুল হুদা (২০১০ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর)৬. ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ (২০২০ সালের এপ্রিলে ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়)।

বিদেশে পলাতক রয়েছেন ৫ জন। লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশীদ (পলাতক)মেজর (অব.) শরিফুল হক ডালিম (মেজর ডালিম নামে পরিচিত, পলাতক)লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী (যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে অবস্থান করছেন)লে. কর্নেল (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী (কানাডায় অবস্থান করছেন)রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন (পলাতক, ধারণা করা হয় ভারতে বা অন্য কোনো দেশে আত্মগোপনে রয়েছেন)।

বিদেশে পলাতক অবস্থায় মৃত্যু হয় ১ জনের, লে. কর্নেল (অব.) আব্দুল আজিজ পাশা (২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে পলাতক অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন)।

এই ১২ জন বাদেও খন্দকার মোশতাক আহমেদসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 

[প্রথমপাতা]