|
বেপরোয়া সাইকেল চালানো রোধ করতে জাপান নতুন জরিমানা আরোপ করেছে

কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
পথচারীদের সাথে দুর্ঘটনার
রেকর্ড সংখ্যক ঘটনার পর, স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে শুরু করে সাইকেল চালানোর
সময় ছাতা ধরে রাখা পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাপানি পুলিশ
কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুসারে পুলিশ এখন ছোটখাট আইন লঙ্ঘন
যেমন সাইকেল চালানোর সময় ছাতা হাতে ধরে থাকার মত ঘটনায় জরিমানা আদায় করতে
পারবে।
১ এপ্রিল থেকে জাপানে বেপরোয়াভাবে সাইকেল চালানোর
অপরাধে সর্বোচ্চ ১২,০০০ ইয়েন বা প্রায় ৭৫ ডলার পর্যন্ত নতুন জরিমানার
বিধান চালু করা হয়েছে।
তথাকথিত নীল টিকিটগুলো ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী
ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য এবং ১১৩টি লঙ্ঘনের জন্য জারি করা হবে। এটি গুরুতর
লঙ্ঘনের জন্য বিদ্যমান লাল টিকিটের ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হলো।
জাতীয় পুলিশ সংস্থা
জানিয়েছে, কর্মকর্তারা মূলত প্রথমবার অপরাধীদের নির্দেশনা বা সতর্কবার্তা
দিয়ে জবাব দেবেন। যারা বারবার নিয়ম লঙ্ঘন করবে বা সতর্কবার্তা মানবে না,
তাদের জরিমানা করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায় যে,
যেসব বিপজ্জনক কাজের ফলে সরাসরি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, সেগুলোর জন্য
তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট জারি করা হবে।
সাইকেল চালানোর সময়
স্মার্টফোন ব্যবহার করলে বা এর স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ সহকারে তাকালে
সর্বোচ্চ ১২,০০০ ইয়েন জরিমানা করা হবে। ট্রাফিক লাইট অমান্য করলে ৬,০০০
ইয়েন, ছাতা হাতে বা ইয়ারফোনে গান শুনতে শুনতে সাইকেল চালালে ৫,০০০ ইয়েন
এবং পেছনে অন্য কাউকে নিয়ে সাইকেল চালালে ৩,০০০ ইয়েন জরিমানা ধার্য করা
হবে। ফুটপাথে সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। নীতিগতভাবে,
সাইকেল কেবল রাস্তাতেই চালাতে হবে।
মদ পান করে বা এর প্রভাবে
সাইকেল চালালে লাল টিকিট এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলা হতে থাকবে। সংশোধিত
আইন অনুযায়ী, সাইকেল আরোহীদের যথাসম্ভব রাস্তার বাম দিকে থাকতে হবে এবং
যানবাহনকে নিরাপদ গতিতে রাস্তায় সাইকেলকে অতিক্রম করতে হবে। অন্য গাড়ির
খুব কাছাকাছি সাইকেল চালানো এবং দুর্ঘটনা সৃষ্টিকারী ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের
ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
সংস্থাটি বলছে, তারা চায়
সাইকেল আরোহীরা যেন নিয়মকানুন বোঝেন এবং আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত উপায়ে
তাদের সাইকেল ব্যবহার করেন।
মৌলিক নিয়মাবলীঃ
বাম-দিকে যান চলাচল: সাইকেল
অবশ্যই রাস্তার বাম দিকে চলাচল করবে।
ফুটপাতে সাইকেল চালানো:
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফুটপাতে সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র "ফুটপাতে
সাইকেল চালানোর অনুমতি আছে" লেখা সাইনবোর্ডযুক্ত এলাকায়, সাইকেল আরোহী
বয়স্ক (৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী) হলে, অথবা রাস্তার অবস্থার কারণে
অপরিহার্য হলে এর ব্যতিক্রম করা হয়। ফুটপাতে সাইকেল চালানোর সময়, আপনাকে
অবশ্যই ধীরে চলতে হবে এবং পথচারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ট্রাফিক সংকেত ও চিহ্ন:
গাড়ির মতোই, অনুগ্রহ করে ট্রাফিক সংকেত এবং থামার চিহ্ন (তোমারে) মেনে
চলুন।
রাতে আলো ছাড়া বাইক চালানো যাবে না: রাতে বা
অন্ধকার জায়গায় আপনাকে অবশ্যই আপনার সাইকেলের আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে।
সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট
লেন: যেসব এলাকায় সাইকেল চলাচলের জন্য দিকনির্দেশক চিহ্ন বা রেখা রয়েছে,
সেগুলো অনুসরণ করুন।
ব্রেক: সাইকেলে অবশ্যই কার্যকরী ব্রেক থাকতে হবে।
দুইজনের আরোহণ: সাধারণত, সহযাত্রী নিয়ে আরোহণ
নিষিদ্ধ।
- ১৬ বছর বা তার অধিক বয়সীরা সঠিক ও দৃঢ়ভাবে বসানো
সেইফটি সিটে অনুর্ধ্ব ৬ বছরের একটি শিশুকে বহন করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে
শিশুটিকে দৃঢ়ভাবে সিটের সাথে বেঁধে রাখতে হবে।
- ১৬ বছর বা তার অধিক
বয়সীরা দু'টি শিশু বহনের জন্যে বিশেষভাবে নক্সাকৃত সাইকেলে দু'জন শিশু বহন
করতে পারবেন। তবে সাধারণ সাইকেলের সামনে ও পেছনে সেইফটি সিট বসিয়ে
শিশুদেরকে বহন করা যাবে না।
পাশাপাশি চালানো: দু'টি
সাইকেল একসাথে পাশাপাশি চালানো নিষিদ্ধ।
ডান দিকে মোড়: আপনাকে
সাধারণত 'দুই-ধাপের ডানে মোড়' নিতে হবে (সোজা যান, সম্পূর্ণ থামুন, দিক
পরিবর্তন করুন এবং তারপরে আবার চলতে শুরু করুন)।
পথচারীর অগ্রাধিকার: সংযোগস্থলে পথচারীরা
অগ্রাধিকার পায়।
মালিকবিহীন পার্কিং নিষেধ: সর্বসাধারণের রাস্তা বা
ফুটপাতে সাইকেল মালিকবিহীন অবস্থায় রাখা যাবে না। অনুগ্রহ করে সাইকেল
পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করুন।
অপসারণ: পরিত্যক্ত
সাইকেলগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে এবং এর জন্য সংরক্ষণ ফি (আনুমানিক ৩,৫০০
ইয়েন) ধার্য করা হতে পারে।
সুপারিশকৃত
নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
হেলমেট পরা: দুর্ঘটনার
ক্ষেত্রে আপনার জীবন রক্ষার জন্য হেলমেট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাইকেল বীমা: দুর্ঘটনার
ক্ষেত্রে সুরক্ষার জন্য দিন দিন আরও বেশি পৌরসভা
সাইকেল আরোহীদের জন্য বীমা
থাকা বাধ্যতামূলক করছে।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|