|
দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছেঃ ৫০ জন আহত; কাশিমা
শহরের একটি শপিং মলে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন নিখোঁজ
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম
জাপানের কিউশু অঞ্চলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
কুমামোতো প্রিফেকচারের কর্তৃপক্ষ এলাকা জুড়ে অসংখ্য আহত হওয়ার খবর
পেয়েছে।
বিকাল ৪:২৭ মিনিটে কুমামোতো প্রিফেকচারে ৭.১
মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। জাপানের ভূকম্পন তীব্রতা স্কেলে এর মাত্রা
ছিল ৭, যা সর্বোচ্চ স্তর। এই তীব্রতার সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ছিল ২০২৪ সালের
নতো উপদ্বীপের নববর্ষের ভূমিকম্প।
২০১৬ সালের এপ্রিলের পর
কুমামোটোতে এই মাত্রার ভূমিকম্প আর হয়নি, যখন শহরটি ৭ তীব্রতার দুটি
কম্পনে কেঁপে উঠেছিল।
মঙ্গলবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আরও কয়েকটি
কম্পন অনুভূত হয়, যেগুলোর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা জাপানি স্কেলে ৫-এর
নিম্নভাগে রেকর্ড করা হয়েছিল।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা
এলাকাটির জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করলেও সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তা
প্রত্যাহার করে নেয়।
অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে,
কাশিমা শহরের এইওন মল কুমামোতো'তে বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
ভূমিকম্পের পর সেখানে একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে এবং ভবনটির দ্বিতীয়
তলা ধসে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ধারণা করছে শপিং মলটিতে
প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
অস্পষ্ট এবং এর সাথে মলের কোনো গ্রাহক জড়িত আছেন কিনা, তা জানা যায়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএইচকে-র একটি হেলিকপ্টার
থেকে তোলা ফুটেজে দেখা গেছে, শপিং সেন্টারটির বাইরের দেয়ালের কিছু অংশ খসে
পড়েছে, যার ফলে ভবনটির কাঠামো বেরিয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে,
ইয়াতসুশিরো শহরে আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা পাচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে নিপ্পন
পেপারের একটি কারখানার কথা বলা হয়েছে, যেটি একটি চিমনি ধসে পড়াসহ বিভিন্ন
কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এই খবরগুলো তদন্ত
করছেন।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প গবেষণা
ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাকাই শিনিচি অনুমান করছেন যে, মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটি
একটি সক্রিয় ফল্ট জোনের এমন একটি অংশের কারণে ঘটেছে, যা ২০১৬ সালে কুমামতো
প্রিফেকচারে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোতেও অক্ষত ছিল।
সাকাই বলেছেন, ২০১৬ সালের
ভূমিকম্পগুলো ফুতগাওয়া ও হিনাগু ফল্ট জোনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং
মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটি হিনাগু ফল্ট জোনের সেই দক্ষিণাংশের কারণে ঘটেছে বলে
মনে করা হচ্ছে, যা ১০ বছর আগে সরে যায়নি।
সাকাই বলেছেন যে, যেহেতু
আগের ভূমিকম্পগুলোর পর দীর্ঘ সময় ধরে ভূকম্পন অব্যাহত ছিল, তাই সর্বশেষ
ভূমিকম্পের পরেও এই ধরনের কার্যকলাপ চলতে পারে।
সাকাই বলেন, যেহেতু হিনাগু
ফল্ট জোনের দক্ষিণাংশ সমুদ্রমুখী, তাই ভবিষ্যতের ভূমিকম্পের মাত্রার ওপর
নির্ভর করে সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে।
টোকিওতে নিজ কার্যালয়ে
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
বলেন, ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ এখনও
মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
"আমাদেরকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে লোকজন আহত
হয়েছে," তাকাইচি বলেন। "কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে
এবং রাস্তাঘাট ও সেতুর ক্ষতি হয়েছে ও ভবন ধসে পড়েছে।"
এনএইচকে-র তথ্যমতে, একটি
উড়াল সড়কসহ প্রধান সড়কগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একটি
মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। একই সাথে রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া
হয়েছে এবং বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষকে
আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
সংস্থা জানিয়েছে।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|