|
চীন পাল্টা ব্যাবস্থা হিসেবে জাপানি নাগরিকদের ভিসা ফি ৭ গুন বাড়িয়েছে
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
জাপানে অবস্থিত চীনা
দূতাবাস শুক্রবার জানিয়েছে যে, পারস্পরিক ভিসা-ফি ব্যবস্থার আওতায় চীন
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চীনগামী জাপানি নাগরিকদের ভিসা ফি সমন্বয়
করবে।
পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে এই সমন্বয় করা
হয়েছে এবং জাপানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি
করেছে—শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এ কথা
জানান। জাপানি নাগরিকদের চীন ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ফি বাড়ানোর বিষয়ে চীনের
ঘোষণার প্রেক্ষিতে তাঁকে এ প্রশ্ন করা হয়েছিল।
সিঙ্গেল-এন্ট্রি (একবার
প্রবেশের) ভিসার জন্য ফি হবে ১৬,৭৫০ ইয়েন (১০৮.৫৭ ডলার) এবং ডাবল-এন্ট্রি
(দুবার প্রবেশের) ভিসার জন্য ২৫,১০০ ইয়েন। ছয় মাস মেয়াদী মাল্টিপল-এন্ট্রি
(একাধিকবার প্রবেশের) ভিসার খরচ হবে ৩৩,৫০০ ইয়েন এবং এক বছর মেয়াদী
মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার খরচ হবে ৫০,২৫০ ইয়েন।
দূতাবাস জানিয়েছে, ১৪
সেপ্টেম্বরের আগে জমা দেওয়া ভিসা আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে আগের হারেই ফি নেওয়া
হবে এবং তৃতীয় দেশগুলির নাগরিকদের ভিসা ফি অপরিবর্তিত থাকবে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে
দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী, চীনগামী জাপানি নাগরিকদের
জন্য সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসার ফি ছিল ২,২৫০ ইয়েন এবং ডাবল-এন্ট্রি ভিসার ফি
ছিল ৩,৭৫০ ইয়েন। ছয় মাস মেয়াদী মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার খরচ ছিল ৪,৫০০ ইয়েন
এবং এক বছর মেয়াদী মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার খরচ ছিল ৭,৫০০ ইয়েন।
কিয়োদো নিউজের তথ্যমতে,
মুদ্রাস্ফীতি ও ইয়েনের মান কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাপানি সরকার গত জুনে
সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, জুলাই মাস থেকে বিদেশিদের জন্য সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা
ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৩,০০০ ইয়েন থেকে ১৫,০০০ ইয়েন (৯০ ডলার) করা হবে; ১৯৭৮
সালের পর এটিই ছিল ভিসা ফি বৃদ্ধির প্রথম ঘটনা।
গত নভেম্বরে চীনের
তাইওয়ান অঞ্চল নিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভুল মন্তব্য এবং
পরবর্তীতে টোকিও-র উসকানিমূলক পদক্ষেপের জেরে চীন-জাপান সম্পর্কের অবনতি
হয়েছে।
জাপানে চীনা নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা
পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির কথা উল্লেখ করে চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে তাদের
নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং
প্ল্যাটফর্ম 'ফ্লাইট ম্যানেজার DAST'-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে চীন ও
জাপানের মধ্যকার ১২টি আকাশপথে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ওই মাসে চীনের মূল
ভূখণ্ড ও জাপানের মধ্যে মোট ১,১৯৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, বাতিলের হার ছিল
৩১.৪ শতাংশ।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্ররা সংবাদ
সম্মেলনে বারবার উল্লেখ করেছেন যে, চীন-জাপান সম্পর্কের বর্তমান জটিলতার
মূল কারণ হলো তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ভুল মন্তব্য;
তাঁরা জাপানকে তাদের ভুল সংশোধনের আহ্বানও জানিয়েছেন।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|