|
২০০৭ সালে জাপানে ২২ বছর বয়সী ব্রিটিশ শিক্ষিকাকে হত্যাকারী দুই বছর ধরে
প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে নিজের চেহারা পরিবর্তন করেছিলেন
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
২০০৭ সালের ২৬শে মার্চ,
চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে পুলিশ তাতসুয়া ইচিহাশি নামের ২৮ বছর
বয়সী এক ব্যক্তির দরজায় কড়া নাড়ে।
কোভেন্ট্রির বাসিন্দা ২২
বছর বয়সী ইংরেজি শিক্ষিকা লিন্ডসে হকার আগের দিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর
সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল একটি ক্যাফেতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে ইংরেজি
শেখার একটি ক্লাসের সময়।
অভিযুক্ত ইচিহাশি বাড়িতেই
ছিলেন। তাঁর পায়ে কোনো জুতো ছিল না, আর পিঠে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক।
পুলিশ সদস্যরা যখন আসামীর
দিকে এগিয়ে এলেন, তিনি দৌড় দিলেন—ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে,
পুলিশকে পাশ কাটিয়ে খালি পায়েই রাস্তায় ছুটে গেলেন।
পুলিশ তাঁর বারান্দায়
লিন্ডসের মৃতদেহ খুঁজে পায়।
যে ব্যক্তিটি নয়জন পুলিশ
সদস্যকে পাশ কাটিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন এক চিকিৎসক ও
দন্তচিকিৎসকের সন্তান; হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন বিদ্যায় স্নাতক এই
ব্যক্তি তখনো বাবা-মায়ের দেওয়া হাতখরচেই চলছিলেন।
এরপর দীর্ঘ দুই বছর আট মাস
তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন।
তিনি ওসাকায় ছদ্মনাম
ব্যবহার করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। ওকিনাওয়ার
বিভিন্ন দ্বীপে আত্মগোপন করে থাকেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান।
সেই সাথে তিনি নিজের
চেহারায় পরিবর্তন আনেন।
গালে থাকা দুটি আঁচিল কেটে
ফেলা হয়। চোখের পাতায় ভাঁজ তৈরি করা হয়। ঠোঁট দুটি সরু করা হয় এবং নাকের
গড়ন উঁচু করা হয়। পরে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, এর মধ্যে কিছু কাজ তিনি
নিজেই করেছিলেন।
মামলাটি যাতে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় থাকে, সেজন্য
হকারের পরিবার ইংল্যান্ড থেকে তিনবার জাপানে এসেছিলেন। তাঁর বাবা বিল
সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, তিনি পুলিশের সমালোচনা করতে আসেননি; তিনি
এসেছিলেন এটা নিশ্চিত করতে যে দেশটি যেন এই ঘটনা ভুলে না যায়।
২০০৯ সালের জুন মাসে এই
মামলার জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ ১০ লাখ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ইয়েন
(প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার) করা হয়।
২০০৯ সালের ২৪শে অক্টোবর,
ইচিহাশি নাকের আরেকটি অস্ত্রোপচারের জন্য নাগোয়ার একটি কসমেটিক ক্লিনিকে
যান।
ক্লিনিকের কর্মীরা তাঁকে পুলিশের 'ওয়ান্টেড' বা
সন্ধানের তালিকায় থাকা ব্যক্তির ছবির সাথে মিলিয়ে দেখেন এবং পুলিশকে খবর
দেন।
২০০৯ সালের ১০ই নভেম্বর, ওসাকার ফেরি টার্মিনালে
ওকিনাওয়ামুখী একটি নৌযানে ওঠার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে।
ততদিনে তিনি ৯৬৬ দিন ধরে
মুক্ত জীবন কাটিয়েছিলেন।
২০১১ সালের জুলাই মাসে
তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি পলাতক জীবনের সেই বছরগুলো নিয়ে
একটি বই লিখেছিলেন এবং তার রয়্যালটি হকার পরিবারকে দিতে চেয়েছিলেন।
তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|