|   প্রথমপাতা  |  প্রকাশের তারিখঃ 火曜日, 9月 08, 2026 15:31 |

 

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রায় ১,০০০ 'বিজনেস ম্যানেজার' ভিসা-ধারী জাপান ত্যাগ করেছেন

 


কমিউনিটি রিপোর্ট ।।

গত বছরের অক্টোবরে ভিসা সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে 'বিজনেস ম্যানেজার' ভিসায় জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের দেশত্যাগের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ভিসা সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম চালু হওয়ার পর এই বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ১,০০০ 'বিজনেস ম্যানেজার' ভিসা-ধারী জাপান ত্যাগ করেছেন—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি (আইএসএ)-র তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ৯৫৩ জন 'বিজনেস ম্যানেজার' ভিসা-ধারী জাপানে পুনরায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই দেশ ত্যাগ করেছেন; অর্থাৎ, কার্যত তাঁরা স্থায়ীভাবেই জাপান ছেড়ে চলে গেছেন।

গত অক্টোবর থেকেই এই সংখ্যাটি ক্রমাগত বাড়ছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪০ জন ভিসা-ধারী পুনরায় প্রবেশের অনুমতি না নিয়েই দেশ ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নতুন ভিসা নিয়ম চালুর পরবর্তী প্রথম পূর্ণ মাস নভেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে ৮০-তে পৌঁছায়। ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে ১১৪-তে দাঁড়ায়।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে এই সংখ্যাটি ছিল ২২৬—যা ডিসেম্বরের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।

অক্টোবরে কার্যকর হওয়া সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ন্যূনতম ৩ কোটি ইয়েন (১,৯০,০০০ মার্কিন ডলার) মূলধন থাকতে হবে; আগে এই সীমা ছিল ৫০ লাখ ইয়েন। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে অন্তত একজন পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগ করতে হবে, যিনি হয় জাপানি নাগরিক অথবা স্থায়ী বাসিন্দার মতো স্থিতিশীল আবাসের মর্যাদাসম্পন্ন কোনো বিদেশি।

নিগাতা শহরের 'অ্যাসোসিয়া অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্ক্রাইভেনার অফিস'-এর প্রধান এবং প্রশাসনিক পদ্ধতির সনদপ্রাপ্ত আইনি বিশেষজ্ঞ ফুমিও হারিমা বলেন, বর্তমান ভিসা-ধারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূলধন সংক্রান্ত নতুন শর্ত পূরণ করা। অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হারিমা বলেন, “অনেক মক্কেলই আমাদের জানিয়েছেন যে তাঁরা ৩ কোটি ইয়েন (৩০ মিলিয়ন ইয়েন) মূলধন জোগাড় করতে পারছেন না। এই অর্থের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সত্যিই হিমশিম খাচ্ছেন।”

বর্তমান ‘বিজনেস ম্যানেজার ভিসা’ বা ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপক ভিসাধারীদের জন্য কঠোর নিয়মকানুন চালু হলেও, নতুন শর্তাবলি পূরণের জন্য ২০২৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিন বছরের একটি সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) দেওয়া হয়েছে।

জাপানে অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের ভিসা নবায়নের সময় নতুন মানদণ্ড পূরণ করতে হবে অথবা তা পূরণের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। আইএসএ (ISA)-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মূলধনের পরিমাণ ৩ কোটি ইয়েনের কম হলেই যে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে—বিষয়টি এমন নয়। বরং ব্যবসাটি যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে, তবে “আবেদনকারীর বসবাসের মর্যাদার (রেসিডেন্স স্ট্যাটাস) অন্যান্য সব দিক সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে আবেদন মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ওয়েবসাইটের ভাষার অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ করে হারিমা জানান, মূলধন সংক্রান্ত শর্তের ভিত্তিতে আইএসএ কীভাবে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করবে, সেদিকে তাঁর প্রতিষ্ঠান নিবিড় নজর রাখছে।

বিজনেস ম্যানেজার ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ ও ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে নামমাত্র বা ভুয়া কোম্পানি (শেল কোম্পানি) নিবন্ধন করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নথিপত্র জমা দেওয়ার মতো বিষয়।

তবে কঠোর নিয়মকানুন, বিশেষ করে মূলধনের উচ্চসীমা নির্ধারণের বিষয়টি ছোট রেস্তোরাঁ মালিকদের—যেমন ভারতীয় কারি বা নেপালি খাবারের দোকান পরিচালনাকারীদের—ওপরও প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে জাপানে বছরের পর বছর কাটানোর পরও অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

‘টোকিও শোকো রিসার্চ’-এর এপ্রিল মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, জরিপভুক্ত ২৯৯ জন বিদেশি ব্যবসায়ীর মধ্যে ৫.৩ শতাংশ ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাবছেন এবং ৪৫.২ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হারিমা মনে করেন ব্যবসা বন্ধের ঘটনা আরও বাড়বে; তবে তিনি জানান, তাঁর কোনো মক্কেলই এখন পর্যন্ত এমনটা করেননি। বরং কেউ কেউ ব্যবসা চালু রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দিয়ে নতুন মালিকের অধীনে কাজ করার মতো পথ বেছে নিতে পারেন।

হারিমা বলেন, “আমার ধারণা, এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। এমন অনেক মক্কেল আছেন যারা সমাধানের পথ খুঁজছেন এবং ব্যবস্থাপনার অধিকার হস্তান্তর করে হয়তো স্টোর ম্যানেজার বা শেফ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তাই সব ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, আমার মনে হয় এদের অনেকেরই ভিসার ধরন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।”

গত কয়েক বছর ধরেই ‘বিজনেস ম্যানেজার ভিসা’র জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছিল। ২০২৫ সালের শেষে এই ভিসাধারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৬,৭৮১ জন; এটি পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ২০,০০০ এবং এক দশক আগের তুলনায় প্রায় ৩০,০০০ বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। প্রায় ৫০,০০০-এর এই সংখ্যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিলেন চীনা নাগরিক।
জাপান টাইমস।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 

[প্রথমপাতা]