|
নারীর ক্ষমতায়ন দেশের উন্নয়নে অপরিহার্যঃ এনএইচকে'র সাথে সাক্ষাৎকারে শেখ
হাসিনা
কমিউনিটি রিপোর্ট ।। জুন ১৩, ২০১৬ ।।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফরের সময় দেশের সরকারী
সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ নিপ্পন হোসো কিওকাই -জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন এনএইচকে
তার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচার করে। কমিউনিটি নিউজের পাঠকদের জন্যে সাক্ষাৎকারটি
এখানে তুলে ধরা হলোঃ
"গত সপ্তাহে বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী জি৭ বৈঠকের আউটরিচ বৈঠকে অংশ নিতে জাপান
সফর করে গেছেন। এনএইচকে'র কিয়োকো ফুজিতা'কে তিনি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান
করেন। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারীদের ক্ষমতান্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন নারী নেত্রীর একজন। রাজনৈতিক
পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা দেশটির স্থপতি শেখ মুজিবর রহমান'র কন্যা। ১২
বছর প্রধানমন্ত্রীত্বকালে তার অন্যতম এজেন্ডা হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। এ প্রসঙ্গে
শেখ হাসিনা বলেন
"আমি যখন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হই তখন আবিস্কার করি আমাদের নারীরা কোনো
উচ্চপদে নিয়োগ পান না। আমি বললাম, না নারীদেরকে সবর্ত্রই তার যোগ্যতা অনুসারে
পদাধিকার দিতে হবে।"
শেখ হাসিনা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৬ মাস পূর্ণ বেতনে মাতৃত্বকালীন
ছুটির নিয়ম চালু করেন। তিনি দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদেরকে বিনা বেতনে পড়ার
সুযোগ করে দিয়েছেন।
"পরিবারের সদস্যরাও এখন বুঝতে পারছেন যদি নারীরা কাজ করে তবে পরিবারে তা সহায়তা
করতে পারে, তারা একটি স্বাচ্ছন্দময় জীবন যাপন করতে পারে। এবং নারীরা সমাজের
উন্নয়নের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে" শেখ হাসিনা বলেন।
জাপান সফরের সময়ে শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো
আবে'র সাথে বৈঠক করেন। তিনি মানসম্মত অবকাঠামোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
"যে কোনো অবকাঠামো উন্নয়নকে অবশ্যই টিকে থাকার যোগ্য হতে হবে, সেটির যথাযথ মান
বজায় থাকতে হবে। আমাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে আমরা আরো একটি নতুন বিমানবন্দর
নির্মাণের পরিকল্পনা করছি। বাংলাদেশ পূর্ব-পশ্চিমের সেতুবন্ধন হতে পারে এই
বিমানবন্দরের মাধ্যমে। তাই আমি মনে করি বিমানবন্দরটি স্থাপনে সহায়তা করতে
জাপানের এগিয়ে আসা উচিত। বিমানবন্দরের মাধ্যমে অন্যান্য খাত গুলোর উন্নয়নও করা
সম্ভব।
আমরা একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ে দেশে
পরিণত হতে হবে, আমাদের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের চাই আরো বেশি
বিনিয়োগ।"
জি৭ নেতারা পূর্ব চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন-
"সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের মিমাংসা করতে হবে।
আমি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার নীতিতেই বিশ্বাসী।
এ ছাড়াও আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে তুলতে চাই, বাংলাদেশ তাই মনে করে
আলোচনার জন্যে অন্য কারো দরকার নেই, নিজেরাই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।
আমরা সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, আমরা দ্রুত বাংলাদেশের উন্নয়ন চাই,
আমরা বাংলাদেশ থেকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত করতে চাই"
১৫০ মিলিয়ন মানুষের নেতা নারীর ক্ষমতায়নে তার অগ্রাধিকার অব্যাহত রাখার এবং
অন্যান্য দেশের সাথে অংশীদারত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই দু'টি বিষয়ের কথা
হাসিনা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।" এনএইচকে।
WARNING:
Any unauthorized use
or reproduction of
'Community' content
is strictly prohibited
and constitutes
copyright infringement
liable to legal
action.
[প্রথমপাতা] |
|