প্রথমপাতা  

সাম্প্রতিক সংবাদ 

 স্বদেশ

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ কমিউনিটি

লাইফ স্টাইল

এক্সক্লুসিভ

বিনোদন

স্বাস্থ্য

বর্তমানের কথামালা

 শিল্প-সাহিত্য

 প্রবাসপঞ্জী 

আর্কাইভ

যোগাযোগ

 

 

 

 

তানাবাতা'র গল্প!

 

 

 

কমিউনিটি রিপোর্ট ।। জুলাই ৯, ২০১৫ ।।

জাপানে তানাবাতা উৎসব পালিত হলো জুলাই মাসের ৭ তারিখ। এটি স্টার ফেস্টিভাল নামেও পরিচিত। জাপানের উৎসবের আদি উৎস চীনের কুইজি উৎসব। চীনা উপকথা অনুসারে বছরের এই দিনটিতে ওরিহিমে এবং হিকোবোশি'র (ভেগা ও অলটার নামের দু'টি তারকা) মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। তাদের মাঝে ব্যবধান হলো এক ছায়াপথ। প্রেমিক যুগল কেবলমাত্র ৭ মাসের ৭ তারিখ পরষ্পরের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন।

বর্তমানে তারিখ এবং উৎসব ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পালিত হয়। তবে সময়টা হয় জুলাই ও অগাষ্টের মাঝামাঝি।

৭৫৫ সালে জাপানের সম্রাজ্ঞী কোওকেন উৎসবটি জাপানে চালু করেন। চীনের কুইজি উৎসব ছিলো এর আদি উৎস যার অর্থ "দক্ষতার জন্যে সমার্পন উৎসব"। কিয়োতো'র হেইয়ান সময়কালের রাজকীয় প্রাসাদে উৎসবটি জাপানে প্রথম শুরু করা হয়।

এদো যুগের গোড়াতে উৎসবটি জনপ্রিয়তা পায় যখন এর অগাষ্টের বন বা ওবন উৎসবের সাথে সংযোগ ঘটে। এর একটি কারণ ছিলো বন উৎসব হয়ে থাকে অগাষ্ট মাসের ১৫ তারিখ। কিন্তু সে সময় অগাষ্ট ছিলো সপ্তম মাস। কাজেই চীনা উপকথার মাসের সাথে মিলে যাচ্ছিলো।

চীনা উপকথাটি হলো এ রকম- তেনতেই'র কন্যা ওরিহিমে আমানোগাওয়া ছায়াপথের কূলে বসে খুব সুন্দর কাপড় বুনতেন। তার পিতা কন্যার বোনা কাপড় খুব ভালোবাসতেন, তাই মেয়েও প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে পিতার জন্যে বসে কাপড় বুনতো। তবে ওরিহিমে ভাবতো তাকে এতো কষ্ট করতে হয় যে সে কখনো কাউকে ভালোবাসার সুযোগই পাবেনা, এই ভেবে ভেবে তার অনেক মন খারাপ হতো। পিতা তেনতেই কন্যার মনের কষ্ট বুঝতে পারলেন তিনি তার সাথে হিকোবোশি'র পরিচয় করিয়ে দিলেন। হিকোবোশি আমানোগাওয়া ছায়াপথের অপর কূলে কাজ করতেন। দু'জনের প্রথম দেখাতেই প্রেম হলো এবং তারা বিয়েও করে ফেললেন।

কিন্তু বিয়ে করে ফেলার পর ওরিহিমে তেনতেই'র জন্যে কাপড় বোনা বন্ধ করে দিলো এবং হিকোবোশি তার গরু গুলোকে স্বর্গে ছেড়ে দিলো। এতে তেনতেই'র খুবই গোস্বা হলো! তিনি দু'জনকে আমানোগাওয়া'র দুই প্রান্তে পাঠিয়ে তাদেরকে দেখা করতে নিষেধ করে দিলেন। স্বামীকে হারিয়ে ওরিহিমের খুবই দুঃখ হলো। দিনরাত মনমরা হয়ে থাকেন পিতাকে অনুরোধ করেন স্বামীর সাথে দেখা করার সুযোগ দিতে। অবশেষে তেনতেই'র মন গললো। তিনি বললেন যদি সে কাপড় বোনার কাজ সম্পন্ন করতে পারে তাহলে প্রতি বছর ৭ মাসের ৭ তারিখ তারা দেখা করতে পারবেন। কিন্তু প্রথমবার দেখা করতে গিয়েই এক বিপত্তি হলো। তাদের সামনে পড়লো বিরাট এক নদী। ওরিহিমে আবার কাঁদতে থাকলেন, দেখে দয়া হল পাখিদের। তারা তাদের ডানা মেলে সেতু বানাল ওরিহিমে'র জন্যে।

তাই বলা হয়ে থাকে যদি তানাবাতা'র সময় বৃষ্টি হয় তবে পাখিরা আর আসতে পারেনা, তখন এই প্রেমিক-প্রেমিকাকে আবার আগামী বছরের জন্যে অপেক্ষা করতে হয়।

জাপানি গল্পে আবার কিছুটা ভিন্নতা আছে। জাপানি গল্পটা হলো- মিকেরান একদিন তার ক্ষেতে দেখতে পেলো কার যেন একটি পোষাক পড়ে আছে। পোষাকটি আসলে তানাবাতা নামের এক দেবীর। তানাবাতা এসে মিকেরান'কে জিজ্ঞেস করলেন যে সে পোষাকটি পেয়েছে কিনা। মিকেরান অস্বীকার করলো। কিন্তু পোষাকটি তার সাথে মিলে খুঁজতে রাজি হয়ে গেলো। এভাবে খুঁজতে খুঁজতে তারা পরষ্পরকে ভালোবেসে ফেললেন, বিয়ে হলো, আর অনেক ছানাপোনাও হলো।

একদিন হঠাৎ তানাবাতা তার সেই পোষাকটি মিকেরান এর বাড়ির ছাদে দেখতে পেলেন। তার মিথ্যে ধরা পড়লো। তিনি মিকেরানকে এক শর্তে ক্ষমা করে দিতে রাজি হলেন। হাজার জোড়া খড়ের জুতো বানানোর পরই মিকেরান তাকে দেখতে পাবেন, তার আগ পর্যন্ত তানাবাতা তাকে ছেড়ে চলে গেলেন। মিকেরান জুতো বানাতে ব্যর্থ হলেন কাজেই তানাবাতার সাথে তার আর দেখা হলো না। তবে বছরে যখন অলটার আর ভেগা তারা দু'টি পরষ্পরকে অতিক্রম করে তখন এই দু'জন দু'জনের সাক্ষাৎ পান।

বলা হয় তানাবাতা মিকেরানকে হাজার জোড়া স্যান্ডেল বানিয়ে বাঁশ গাছের নীচে পুঁতে ফেলতে বলেছিলেন, তাহলে নিশ্চিত ভাবে তাদের মধ্যে মিলন হবে। মিকেরান স্যান্ডেন বুনে তাদেরকে পুঁতেও ফেলেছিলেন বাঁশ গাছের নীচে যেমনটা তানাবাতা বলেছিলেন। গাছ যখন গজালো মিকেরান গাছ বেয়ে উঠতে লাগলেন কিন্তু মাত্র এক জোড়া স্যান্ডেলের সমান উচ্চতা বাকি রইলো তানাবাতার কাছে পৌঁছুতে। মিকেরান তানাবাতা'কে ডাক দিলো -বেরিয়ে এসে মিকেরান'কে টেনে তুললেন তানাবাতা। কিন্তু এতে তানাবাতা'র পিতা মোটেই খুশি হলেন না। তিনি মিকেরান'কে কঠিন এক কাজ দিলেন। একটি তরমুজ ক্ষেতে তিন দিন তিন রাত ধরে পাহারা দিতে হবে কিন্তু এর মধ্যে একটি তরমুজের গায়েও হাত দেয়া যাবে না। তরমুজের ক্ষেত দেখতে গিয়ে মিকেরানের খুব তৃষ্ণা পেলো। সে একটি তরমুজকে ছুঁয়ে দিলো, সাথে সাথেই তরমুজ একটি বহমান নদী হয়ে গেলো যা চিরস্থায়ী ভাবে মিকেরানের সাথে তানাবাতা'কে পৃথক করে দিলো। তানাবাতা তার পিতার কাছে অনেক কাঁদলেন, মেয়ের কষ্টে পিতার মন গললো। তিনি প্রতি বছরের ৭ মাসের ৭ তারিখ মিকেরান'র সাথে দেখা করার অনুমতি দিলেন।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action. 

[প্রথমপাতা]