|
|
নিবন্ধনের আওতায় আসছে রোহিঙ্গারা
চঞ্চল দাশগুপ্ত,কক্সবাজার প্রতিনিধি ।।
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ ।।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত
নিয়েছে সরকার।কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত অবস্থান করা ৪ লক্ষ
রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের নাম ও ঠিকানার সাথে সাথে ছবি, হাত ও
আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মতো শরণার্থী শিবিরের
আগে থেকেই অবস্থানরত রোহিঙ্গাদেরও আনা হবে নিবন্ধনের আওতায়। মূলত দেশে
অবস্থানরত ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ভোটার হওয়া প্রতিরোধে
এ সিদ্ধান্ত।
গত ২৩শে আগষ্ট থেকে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়া
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চলে আসে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডে। নানা সমালোচনার মুখে
শেষ পর্যন্ত সরকার এসব রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে নিবন্ধনের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা যায়,গত তিন দশকে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে
অনুপ্রবেশ করলেও তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। শুধুমাত্র
প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কিছু রোহিঙ্গার নিবন্ধন করা
হয়েছিলো। তাদেরকে রাখা হয়েছিলো নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরে। কিন্তু গত এক
দশকে রোহিঙ্গা আসার পরিমাণ বাড়লেও হয়নি কোনো নিবন্ধন। এর মাঝে কয়েক লাখ
রোহিঙ্গা যেমন বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে গেছে। তেমনি জালিয়াতির মাধ্যমে
ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা(ফোকাল পারসন) এডিএম
খালেদ মাহমুদ জানান, রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন অবশ্যই দরকার। আমরা তাদের
সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা
সম্ভব হবে না।শীঘ্রই আমাদের টেকনিক্যাল লোক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসবে। সেসবের
মাধ্যমে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে নিবন্ধন করা হবে। তিনি আরও বলেন,প্রাথমিকভাবে
টেকনাফ এবং উখিয়াকে ২০টি জোনে ভাগ করে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করা হবে।
কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন,
'আমাদের কাছে যে কোনো ধরণের সহযোগিতা চাইলে আমরা তা অবশ্যই করবো। এক্ষেত্রে
প্রযুক্তির পাশাপাশি জনবল দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত
রয়েছে।
কক্সবাজার উখিয়া উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন
বলেন,মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা নানা উপায়ে আমাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে মিশে
যাচ্ছে।এদেরকে শনাক্ত করে এক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।একারণে নতুন আসা প্রায় ৪
লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের কাছে ইতিমধ্যে ২ হাজার একর ভুমি চাওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবারও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রাখাইন রোহিঙ্গা
বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করছে। যারা আসছে তাদের প্রায় প্রতিটি পরিবার
হত্যাকান্ড,নির্যাতন এবং সহিংসতার শিকার।
প্রত্যেকের গল্পই বড় নির্মম।এসেই কেউ খাবারের সন্ধানে ছুটছে, কেউ খুঁজছে
মাথা গোজার ঠাঁই। আর রোহিঙ্গাদের খাদ্য-আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে
সীমান্তের স্থানীয় লোকজন। তাদের সহযোগিতার জন্যই এখনও কোন বিপর্যয় হয়নি। যে
যেভাবে পারছে সাহায্য সহযোগিতা করছে রোহিঙ্গাদের।
এর পাশাপাশি সীমান্তের এক শ্রেনীর দূর্বৃত্ত রোহিঙ্গাদের জিম্মি করেও মোটা
অংকের টাকা আদায় করছে।ইতিমধ্যে তারা রোহিঙ্গাদের দালাল হিসাবে চিহ্নিত
হয়েছে। টেকনাফের বাসস্ট্যান্ড, শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, খুরের মুখ,
বাহারছড়া, শামলাপডুার, নাইটপাড়া, উনচি প্রাং, হোয়াইক্ষ্যং, মুচনী, লেদা,
লম্বাবিল, বালুখালি, ঠ্যাংখালি, কক্সবাজারের কুতুপালং সহ রোহিঙ্গাদের যে সব
স্থানে সমাগম ঘটছে সেখানেই এই দালালরা সক্রিয় রয়েছে।এ পর্যন্ত প্রায় তিন
শতাধিক ‘দালাল’ এসব অপকর্মের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা
গেছে।টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন সিদ্দিক বলেন,
রোহিঙ্গাদের নিয়ে দালাল চক্রের সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি।
এখানে দালাল আছে। তবে আমরা তাদের ছাড় দিচ্ছি না। দালালদের ততপরতা প্রতিরোধে
আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যেই ২৫ দালালকে গ্রেপ্তার করেছি। ভ্রাম্যমান আদালতের
মাধ্যমে তাদের সাজাও দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত,বর্তমানে ৩৩ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গার জন্য কক্সবাজার জেলার
টেকনাফের লেদা এবং উখিয়ার কতুপালংয়ে দু’টি রেজিষ্ট্রার্ড শরণার্থী শিবির
রয়েছে। আর আন রেজিষ্ট্রার্ড শরণার্থী শিবির রয়েছে অন্তত ৫টি।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly
prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal
action.
[প্রথমপাতা] |
|