|   প্রথমপাতা  |  প্রকাশের তারিখঃ Monday, April 22, 2024 09:43 PM |

 

২৩তম টোকিও বৈশাখী মেলায় প্রবাসীদের ঢল

 

 

রাহমান মনি ।।

জাপান প্রবাসীদের প্রাণের মেলা টোকিও বৈশাখী মেলা ও কারি ফেস্টিভ্যাল ২০২৪ আয়োজনে প্রবাসীদের ঢল নেমেছিল। প্রবাসীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক জাপানী সহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও বাংলা নববর্ষের আয়োজনে মেতে উঠেন।

এবছর ১৪ এপ্রিল নববর্ষ হলেও ঈদ পরবর্তী বিভিন্ন আয়োজন এবং মেলার মাঠ প্রাপ্তির বিষয়টি জড়িত থাকায় এক সপ্তাহ পরে বৈশাখী মেলার আয়োজনকে ঘিরে জাপান প্রবাসীরা উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

এবারের আয়োজন ছিল ২৩তম। ১৯৯৯ সালে একই স্থানে টোকিও বৈশাখী মেলা নামে জাপান প্রবাসীদের আয়োজনে মেলাটি শুরু হয়। ২০২০ টোকিও অলিম্পিককে কেন্দ্র করে অবকাঠামো ঢেলে সাজানো এবং করোনার কারনে জন্য দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে পুনরায় একই ভেন্যুতে দল মত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতায় আয়োজনটি হয়।

মেলার উদ্বোধন করা হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'এসো হে বৈশাখ' গান পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, শিশুকিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাপানি অনুষ্ঠান, অতিথিদের অভ্যর্থনা এবং প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবশেষে আমন্ত্রিত শিল্পীর সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে মেলা শেষ হয়।

এবছরও মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল আয়োজক সংগঠন জেবিএস পরিচালিত ‘বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা । প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশীরা এখানে এসে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার নেতৃত্বে থাকেন ডঃ নোরিকো কিনুকাওয়া ।

মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহামেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন তোশিমা সিটি মেয়র মিয়ুকি তাকাগিওয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া বিভাগের সচিব ইয়াসুহিরো শিনতো, জাপান বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের পরিচালক হিরোয়ুকি সাকুরাই এবং আয়োজক সংগঠন জেবিএস-এর চেয়ারম্যান ওসামু ওৎসুবো।

প্রতি বছরের মতো এবারও টোকিওর তোশিমা সিটি ইকেবুকুরো নিশিগুর্চি পার্কে বসেছিল জাপান প্রবাসীদের মিলনমেলার হাট। ২১ এপ্রিল রোববার ইকেবুকুরো এলাকাটি হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয়েছিল বাংলা ভাষা, মানুষ দেখেছে বাংলাদেশিদের পোশাক সংস্কৃতি, স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির এবং উপভোগ করেছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংস্কৃতি। এদিন বর্ণিল সাজে সেজেছিল শহীদ মিনার খ্যাত ইকেবুকুরো নিশিগুর্চি পার্ক।

এই পার্কেই স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অর্থায়নে দেশের বাইরে প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার। তাই নতুন কোনো জাপানি যিনি টোকিওর বাইরে থাকেন,তাকে যদি বৈশাখী মেলার দিন মেলা প্রাঙ্গণে ছেড়ে দেয়া যায় তাহলে নির্ঘাত তিনি দ্বিধায় পড়ে যাবেন যে, তিনি আসলেই নিজ দেশে আছেন, নাকি বিনা টিকেট, পাসপোর্ট, ভিসাবিহীন স্বপ্ন দেখার মতো তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় প্রবাসী সাংস্কৃতিক দল ‘উত্তরণ’ কালচারাল গ্রুপ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক দলের সাথে প্রবাসীদের নতুন সাংস্কৃতিক ‘মাদল’ দ্বিতীয় বারের মতো বৈশাখী মেলায় অংশগ্রহণ নিলেও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হননি ।

এছাড়া জাপানী শিল্পীরাও সংগীত পরিবেশন করেন। জাপানি শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি বেশ উপভোগ্য ছিল।

শিশু কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটিতে ডঃ তপন কুমার পাল পরিচালিত শিশু শিল্পী একাডেমীর শিশু শিল্পীদের দলীয় নাচটি ছিল বিশেষ উপভোগ্য। এছাড়াও একই একাডেমীর শিশু শিল্পী  ভাগ্যশ্রী পাল―এর রবীন্দ্রসংগীতের গানে একটা নৃত্য পরিবেশনাটি  প্রবাসীরাই স্থানীয় দর্শকরাও উপভোগ করেছেন।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলাতে বাংলা ভাষা সংস্কৃতির পাশাপাশি খাদ্য সংস্কৃতি, পোশাক সংস্কৃতি ও অন্যান্য কুটির শিল্পের পসরা নিয়ে জাপানের মাটিতে বসেছিল ছোট্ট এক টুকরো বাংলাদেশ ।

এ বছরও মেলায় মহিলা এবং পুরুষদের নামাজের জন্য বিশেষ স্থান বরাদ্ধ রাখা হয় ।

জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই মহা মিলনমেলায় শুধু যে বাংলাদেশিরা অংশ নিয়ে থাকেন বা আনন্দ উপভোগ করেন তা কিন্তু নয়। স্থানীয় জাপানিদের বিপুল অংশগ্রহণ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নাগরিকগণ এতে অংশ নিয়ে থাকেন এবং উপভোগ করে থাকেন। আর মেলাটি উন্মুক্ত পার্কে অনুষ্ঠিত হয় বলে অনেক ভ্রাম্যমাণ দর্শনার্থীরও পদধূলি পড়ে বাংলাদেশিদের এই মেলায়।

টোকিও বৈশাখী মেলা ও কারি ফেস্টিভ্যাল জাপান প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ মিলন মেলা। নির্দিষ্ট একটি দিনের জন্য মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও মেলাকে ঘিরে প্রবাসীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করে বেশ কিছুদিন পূর্ব থেকেই। আর রেশও থাকে বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা টোকিও বৈশাখী মেলা উপভোগ করেন। এক সময় জাপান প্রবাসী ছিলেন এখন অন্য দেশে বা বাংলাদেশে বসবাস করেন এমন অনেকেই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে জাপান সফর করেন।

এবছর মেলাতে প্রয়াত সহ-প্রধান সমন্বয়ক খন্দকার আসলাম হিরা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার অন্যতম রুপকার সদ্য প্রয়াত শিব নারায়ন দাস এর স্মরণে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং প্রয়াত সহ-প্রধান সমন্বয়ক খন্দকার আসলাম হিরাকে মরণোত্তর এচিভমেন্ট ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তার পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহন করে তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, দীর্ঘ জাপান জীবনের সাথী জাপান আওয়ামীলীগের সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ ।

বিদায় বেলায় সবার মুখে একই বাক্য থাকে, “দেখা হবে আগামী মেলায়”।

 

 

WARNING: Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to legal action.

 

[প্রথমপাতা]