[প্রথমপাতা]

 

 

 

রবীন্দ্রনাথের বন্ধু শিল্পী কাৎসুতা
  

প্রবীর বিকাশ সরকার

 

 

অবনীন্দ্রনাথের বাড়ির বাগানে গৃহীত ছবিতে বাঁ দিক থেকে শিল্পী কাৎসুতা শোওকিন

 

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম যখন জাপানে ছড়ায়নি, নোবেল পুরস্কার অর্জনের বেশ কয়েক বছর আগে ১৯০২ সালে কলকাতায় জাপানি মনীষী শিল্পাচার্য ওকাকুরা তেনশিনের (১৮৬২-১৯১৩) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। সেই সাক্ষাৎ এক ঐতিহাসিক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিসত্দার করেছে জাপান-ভারত-বাংলাদেশের শিক্ষা, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে। রবীন্দ্রনাথ ও ওকাকুরার বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্ক পক্ষান্তরে জাপান-বাংলা সংস্কৃতির নানা দিক উন্মোচন করেছিল। যেমন শিল্পকলা। রবীন্দ্রনাথ তখনও শিল্পকলার দিকে ধাবিত হননি। ষাট বছর বয়সে তিনি ছবি আঁকায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু পারিবারিক সংস্কৃতির আবহ আর শিল্পী গগনেন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ প্রমুখের প্রভাব তাঁর উপর পড়েছিল।


অন্যদিকে ওকাকুরা শিল্পী ছিলেন না কিন্তু সহস্রবছর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জাপানি শিল্পকলার পুনরুদ্ধার এবং সংস্কারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। কলকাতায় যেমন বাংলার শিল্পকলার ঐতিহ্য রক্ষার্থে উদ্যোগী হয়েছিলেন অবনীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ। অর্থাৎ এমন একটি সময় জাপান-বাংলার সংযোগ ঘটে যখন দু'অঞ্চলে ঐহিত্যবাহী শিল্পকলার নবজাগরণ শুরু হয়েছে। পরবর্তীকালে দু'দেশের চিত্রশিল্পীদের কাজে পারস্পরিক প্রভাব অনন্য এক শৈল্পিক জগত নির্মাণ করেছে যা আমাদেরকে আজও চমৎকৃত করে। এই বিষয়ে বাংলা ভাষায় আলোচনা হয়েছে কিনা জানার সৌভাগ্য এখনো হয়নি।

ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে ওকাকুরার পূর্বে কোন যোগাযোগ ছিল না। ওকাকুরার বান্ধবী ভগ্নী নিবেদিতার (ইঙ্গো-আইরিশ সমাজ সংস্কারক মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল, ১৮৬৭-১৯১১) মাধ্যমে তাঁর প্রথম পরিচয় ঘটে স্বামী বিবেকানন্দর সঙ্গে, তারপর স্বামীজীর মাধ্যমে পরিচয় ঘটে রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৫৮-১৯৪৮) সঙ্গে। সুরেন্দ্রনাথের মাধ্যমেই ওকাকুরা গগনেন্দ্র, অবনীন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসু প্রমুখের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভারতে দশ মাস অবস্থানকালীন সময়ে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে জড়িয়ে যান। ওকাকুরা ও রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য সংস্কৃতি, দর্শন ও আদর্শ রক্ষার্থে একমত পোষণ করেন। ওকাকুরা এর আগে আমেরিকার বোস্টন, ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রিয়া, সুইটজারল্যান্ড, স্পেইন প্রভৃতি দেশ এবং চীন ভ্রমণ করে এশিয়া তথা প্রাচ্য সম্পর্কে তাঁর মননে যে গভীর প্রতীতি জন্মেছিল তার ভিত্তিতেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এশিয়ার চিন্তা ও চেতনার মধ্যে বহুলাংশে মিল রয়েছে__বিশেষ করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, স্বাধীনচিন্তা, ধর্মীয় ঐক্য, প্রকৃতিনির্ভর আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রভৃতির ক্ষেত্রে এশিয়ার তিন প্রাচীন সভ্যতা সিন্ধু, চীন ও জাপান পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। তাঁর লিখিত 'দি আইডিয়েল অব দি ইস্ট' গ্রন্থের প্রথম বাক্য 'এশিয়া ইজ ওয়ান' এর মধ্যেই এই বিপুল উপলদ্ধি নিহিত আছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর এই উপলদ্ধিকে সমর্থন দিয়েছিলেন

 

 

জাপানে ফিরে এসে ওকাকুরা তাঁর দুজন শিষ্য চিত্রশিল্পী ইয়োকোয়ামা তাইকান (১৮৬৮-১৯৫৮) এবং হিশিদা শুনসোওকে (১৮৭৪-১৯১১) কলকাতায় পাঠান ১৯০৩ সালে। তাঁরা মাস ছয়েক কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ প্রমুখের সঙ্গে ভাব এবং কলাশৈলী বিষয়ে মত বিনিময় করেন। তাঁরা পরস্পরের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেন। তাইকান অবনীন্দ্রনাথকে জাপানি ধারার ওয়াশ-পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তাইকান, শুনসোও ভারতীয় চিত্রকলা থেকে গভীর প্রভাব গ্রহণ করেছিলেন। তাইকান ১৯০৩ সালে অঙ্কিত তাঁর 'রিউতো' (ভাসমান প্রদীপ), 'ইনদো মামোরিগামি' (কালীদেবী) ও 'শাকা তো মাজো' (শাক্য ও মোহিনী); ১৯০৬-৭ সালে অঙ্কিত 'কাননন' (ক্ষমার দেবী), ১৯১১ সালে অঙ্কিত 'শাকা জুউরোকু রাকান' (শাক্যমুনি ও ১৬ জন অর্হৎ)', ১৯১২ সালে অঙ্কিত 'বিয়োবু' (শান্তি ও প্রেমের জন্য প্রার্থনা) প্রভৃতি চিত্রকর্মে সেই প্রভাব সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। অনুরূপ শুনসোওর ক্ষেত্রেও। ১৯০৩ সালে অঙ্কিত তাঁর 'সারাসুয়াত্তি' (সরস্বতীদেবী), 'মিশোও' (বুদ্ধের হাসি), 'নিউমা কিয়োওয়োও' (দুগ্ধমোহ পূজো); ১৯০৯ সালে অঙ্কিত 'বিয়াকুএ কাননন' (শুভ্র কাননন) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসব চিত্রে বাংলার প্রভাব খুবই গভীরভাবে দৃশ্যমান। প্রত্যেকটি চিত্রকর্মই বিখ্যাত এবং জাপানের অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ।

তাঁদের পর ১৯০৫ সালে ভারতে যান ওকাকুরার স্নেহভাজন চিত্রশিল্পী কাৎসুতা শোওকিন (১৮৭৯-১৯৬৩)। তিনি ছিলেন ফুকুশিমা-জেলার সন্তান। ওকাকুরা প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, তারপর সরকারের কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বহির্বিশ্বে বাণিজ্য প্রশিক্ষণ প্রকল্পের বৃত্তি নিয়ে ভারতে নকশা গবেষণা করার উদ্দেশ্যে গমন করেন। ভারতে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নিয়ে কোন কোন তথ্যের ক্ষেত্রে সংশয় লক্ষ করা গেলেও তিনি যে ওকাকুরার ইচ্ছেতে এবং রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণে ভারতে গিয়েছিলেন তা তাঁর নিজস্ব স্মৃতিচারণে সুষ্পষ্ট। তিনি দু'বছর ভারতে ছিলেন। অধিকাংশ সময় জোঁড়াসাঁকো এবং শান্তিনিকেতনে অবস্থান করেন। ওকাকুরা, তাইকান এবং শুনসো এই তিনজনের কেউই শান্তিনিকেতনে যেতে পারেননি। কাৎসুতাই প্রথম জাপানি যিনি শিল্পকলার শিক্ষক হিসেবে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমে নিযুক্ত হন রবীন্দ্রনাথ কতর্ৃক। কলকাতার সরকারি চারুকলা বিদ্যালয় এবং শান্তিনিকেতনে জাপানি ও প্রাচ্য চিত্রকলা শিক্ষা দেন। শিল্পাচার্য অবনীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ প্রমুখের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন। জাপানি রবীন্দ্রগবেষক ডঃ কাজুও আজুমার ভাষ্য থেকে জানা যায় যে, শান্তিনিকেতনের আবহাওয়া ও পরিবেশ শিল্পী কাৎসুতার খুব ভালো লেগেছিল। এখানে তিনি একাধিক জাপানির সানি্নধ্য লাভ করেন যেমন, বৌদ্ধপন্ডিত কাওয়াগুচি একাই (১৮৬৬-১৯৪৫), জুজুৎসু (জুদো, কুস্তি) প্রশিক্ষক সানো জিননোসুকে (১৮৪২-১৯৩৪), কুসুমোতো নামক জনৈক দারুশিল্পী প্রমুখ। কাওয়াগুচি একাই এর সঙ্গে দার্জিলিং পাহাড়ে গিয়েও ছবি এঁকেছেন। শান্তিনিকেতনে জোছনা রাতে তাঁরা সারা রাত জেগে জেগে গল্প করতেন, স্বদেশের কথা ভাবতেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত মন্দির ও মূর্তির ছবি এঁকেছেন। ছবি এঁকেছেন হিন্দু পৌরাণিক দেবদেবী, ফুললতাপাতা, জীবজন্তুর। ১৯০৭ সালে জাপানে ফিরে আসার পর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করেছিলেন সেইসব বিস্তর শিল্পকর্ম। তিনি জাপানি ঐতিহ্যবাহী ধারার চিত্রশিল্পী হলেও তাঁর চিত্রকর্মে পাশ্চাত্যের বাস্তববাদের লক্ষণ বিদ্যমান। যদিওবা তাঁর চিত্রকর্ম জাপানে একাধিক জাপান-ভারত শিল্পকলা প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত হয়নি। সে এক রহস্য বটে!

অধ্যাপক আজুমা আরও জানাচ্ছেন যে, রবীন্দ্রনাথের গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল কাৎসুতার সঙ্গে। কবি যখন ১৯১৬ সালে জাপান প্রথম সফর করেন তাঁর সংবর্ধনা পরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন শিল্পী। এই সময় কবির সঙ্গে ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন শিল্পকলার ছাত্র কিশোর বয়সী মুকুলচন্দ্র দে। তিনি কাৎসুতার কাছে অবনীন্দ্রনাথ ও গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক ছবি আবিষ্কার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ যতবারই জাপানে এসেছেন শিল্পী কাৎসুতা তাঁর সেবাযত্নে নিযুক্ত হয়েছেন। কবিও তাঁর উপর বিশেষ অনুরক্ত ছিলেন বিধায় স্বরচিত কবিতা 'ঔম' (বিপদে মোরে রক্ষা করো....) তাঁকে স্বহস্তে লিখে উপহার প্রদান করেছিলেন ১৯১৬ সালে।

 


অন্য এক উৎস থেকে জানা যায় কাৎসুতা ছিলেন প্রথাবিরোধী শিল্পী। পরবর্তীতে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আপন জন্মশহরের শিল্পীদের নিয়ে টোকিওতে সমিতি গঠন এবং একাধিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। জীবিতকালে তাঁর সর্বমোট ১১টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৩০ সালে ইতালির রোমে জাপানি চিত্রকলার প্রদর্শনীতেও তাঁর চিত্রকর্ম স্থান পায়। তাঁর মৃত্যুর ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ফুকুশিমা-জেলার শিল্পকলা জাদুঘরে ঘটা করে শিল্পীর এক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়: প্রতিষ্ঠানবিরোধী শিল্পী কাৎসুতা শোওকিন প্রদর্শনী। জীবিককালেই শিল্পী তাঁর ভারতবিষয়ক ছবি ও লেখাচিত্রসমূহ জন্মস্থানের মাতৃ মহাবিদ্যালয়ে দান করেছিলেন সেগুলো এখনো সুরক্ষিত আছে। তাছাড়া তাঁর শিল্পকর্ম টোকিও জাতীয় আধুনিক শিল্পকলা জাদুঘর, সাইতামা-প্রিফেকচার আধুনিক শিল্পকলা জাদুঘর এবং মাৎসুমোতো নগর শিল্পকলা জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বিশ্বভারতী জাদুঘরেও তাঁর চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে বলে অধ্যাপক আজুমার গ্রন্থ থেকে জানা যায়।

 


কাৎসুতা শোওকিন খুব সূক্ষ্মবোধসম্পন্ন প্রকৃতিপ্রেমী শিল্পী ছিলেন। তাঁর ফুল-লতা-পাতা-পশুপাখির চিত্রসমূহ এর প্রমাণ বহন করে। এই কারণে দেশ-বিদেশে তিনি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। প্রকৃতির প্রতি কী রকম তীক্ষ্নদৃষ্টি এবং শিল্পকর্মে সূক্ষ্মকলাকৌশল তিনি রপ্ত করেছিলেন তাঁর স্মৃতিচারণ ও দুটি চিত্র থেকে তা বোঝা যাবে। সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে গৃহীত স্মৃতিচারণটি ১৯৬১ সালে জাপানে রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গঠিত টেগোর মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন (১৯৫৯-৬১) কতর্ৃক প্রকাশিত বুলেটিন-পুস্তিকার প্রথম সংখ্যাতে প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য যে, তিনি এই সংস্থার অন্যতম প্রধান কাউন্সিলর ছিলেন। ক্ষুদ্র এই স্মৃতিচারণটির সঙ্গে সংযোজিত হয়েছে দুটি করে মূল্যবান ছবি ও রেখাচিত্র। রবীন্দ্রভক্ত পাঠকদের জন্য লেখাটি মূল জাপানি ও ইংরেজি ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করা গেল:

১৯০৫ সালের কথা। তেনশিন স্যারের কল্যাণে সানো জিননোসুকে এবং আমি দুজনে ঠাকুরবাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে যাই। সানো জুজুৎসুর কারণে আহুত হয়েছিলেন। প্রথম দিকে কিছুদিন রবীন্দ্রনাথ মহাশয়ের বাড়িতে ছিলেন তারপর শান্তিনিকেতনে জুজুৎসু শেখাতে চলে যান। আমি ঠাকুরের মহাশয়ের ভ্রাতুষ্পুত্র গগনেন্দ্রনাথ মহাশয়ের শুরু করা চারুকলা বিদ্যালয়ে প্রাচ্যচিত্র শেখানোর জন্য গাগু মহাশয়ের বাড়িতে প্রায় দু'বছর অবস্থান করি। ঠাকুর মহাশয়ের বাড়ি মহাপরিবারসম জীবনযাপনে মুখর। বিস্তৃত প্রাঙ্গণ জুড়ে ভাই ও ভ্রাতষ্পুত্রদের ঘরগুলো থাকায় পরস্পর মাঝে মাঝে যাওয়াআসা করতেন। সেসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ৪/৫ বছর হয়েছে, মাঝে মাঝে কলকাতার বাড়িতে ফিরে আসতেন। (বুলেটিনের) প্রচ্ছদ পরবর্তী পৃষ্ঠার ছবিটি ঐ রকম একটি সময়ে সকলে একত্রিত অবস্থায় গাগু মহাশয়ের বাগানে তোলা। এই সময় ঠাকুর মহাশয়ের একক একটি ছবিও তোলা হয় দুটোই সানো মহাশয় এবং আমাকে প্রেরণ করেন। আমি অ্যালবামে রেখে দিয়েছিলাম। যা আজকে ভারতীয়দের কাছেও দুর্লভ বলেই মনে হবে। প্রসঙ্গত, সেসময় রুশ-জাপান যুদ্ধে জাপানের বিরাট বিজয়ের অব্যবহিতকাল ছিল বলে আমরাও আন্তরিকভাবে সংবর্ধিত হয়েছিলাম। মামুলি ভাষায় যদি বলি লোকপ্রিয় হওয়ার কারণে আনন্দময় দিন অতিবাহিত করেছি।

সেই সময় সুযোগ বুঝে প্রায়ই হাতে স্কেচবুক নিয়ে এখানে-সেখানে ভ্রমণ করতে চলে যেতাম। এবার যখন (বুলেটিনের) প্রচ্ছদে কী দেয়া যায় বলে সম্পাদক জিজ্ঞেস বললেন তখন সেই সময়কার স্কেচবুক খুলে যথার্থ একটা কিছু দেয়া যায় কিনা খুঁজতে লাগলাম। যেহেতু ভারত-জাপান বন্ধন__এই বৃহত্তর অর্থের কথা চিন্তা করে প্রচ্ছদের জন্য বুদ্ধগয়ায় অঙ্কিত বোধিবৃক্ষের একটি পাতা বের করলাম। শেষ প্রচ্ছদের জন্য একটি অশোক ফুল বের করে দিলাম, সোমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে যখন যাই তখন ফুটতে দেখেছি এবং মনে ছাপ ফেলেছিল বলে সেটা এঁকে রেখে দিয়েছিলাম।


জাপান প্রবাসী লেখক, গবেষক
probirbikashsarker@gmail.com
 

[প্রথমপাতা]