|
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগ কর
কমিয়ে ১ শতাংশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন
কমিউনিটি রিপোর্ট ।।
তার দলের এক কর্মকর্তার
মতে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বৃহস্পতিবার খাদ্য ও পানীয়ের
ওপর ভোগ করের হার বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার ইচ্ছা
প্রকাশ করেছেন, কারণ পরিবারগুলো উচ্চমূল্যের সঙ্গে ক্রমাগত সংগ্রাম করছে।
ক্ষমতাসীন লিবারেল
ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাহীদের এক বৈঠকে কর ছাড়ের পরিকল্পনাটি জানানো
হয়, যার সাথে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তার
ব্যবস্থা থাকবে, যা কার্যকরভাবে করের বোঝা শূন্যে নামিয়ে আনবে। ১৯৮৯ সালে
এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এই প্রথমবার ভোগ করের হার কমানো হবে।
তাকাইচি এলডিপির ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো
আগামী মাসের শুরুতে মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনাটির অনুমোদন আদায় করা এবং শরতে
অনুষ্ঠিতব্য সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পাস করানো।
ইতিমধ্যেই উচ্চ সরকারি
বন্ডের মুনাফা এবং দুর্বল ইয়েনের মধ্যে, এই কর ছাড় বিশ্বের চতুর্থ
বৃহত্তম অর্থনীতির আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে,
কারণ এই পদক্ষেপটি সামাজিক সুরক্ষার আর্থিক উৎসে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি
করবে এবং দুই বছরে কর রাজস্বের ক্ষতি প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬১
বিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত পৌঁছাবে।
তাকাইচি, যিনি অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সম্প্রসারণমূলক ব্যয় অনুসরণ করছেন, তিনি ঘাটতি
পূরণের জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রাজস্ব উৎসের প্রস্তাব দেননি।
তাকাইচির নেতৃত্বাধীন
এলডিপি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ
করে। তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল খাদ্য ও পানীয় পণ্যের ওপর ভোগ করের হার
দুই বছরের জন্য শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি। সে সময় উচ্চমূল্যের
মধ্যে তাদের জোটসঙ্গী, জাপান ইনোভেশন পার্টি এবং অনেক বিরোধী দলও একই ধরনের
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
কিন্তু কর ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে একটি
সর্বদলীয় বৈঠকে জান যায় যে, খুচরা বিক্রেতাদের ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবস্থা
শূন্য হারে সমন্বয় করতে আরও সময় লাগবে, তাই শাসক দলগুলো তাদের অবস্থান
পরিবর্তন করে কর ১ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
শূন্য করের নির্বাচনী
প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে বছরে মোট ৬০০
বিলিয়ন ইয়েন নগদ অর্থ প্রদান করা হবে, যা খাদ্য ও পানীয় পণ্যের উপর ১
শতাংশ কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের সমতুল্য।
বিরোধী দলগুলো সমালোচনা
করছে যে এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর কার্যত
করের হার বৃদ্ধি অপেক্ষা করছে। এমন পরিস্থিতিতে, ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা
পরিষদ’ নামে পরিচিত সর্বদলীয় বৈঠকটি মাসব্যাপী আলোচনার পরও কোনো ঐকমত্যে
পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপর এসে
পড়েছে।
যদিও তাকাইচি দুই বছর পর, অর্থাৎ সম্ভবত ২০২৯
সালের এপ্রিলে, করের হার পুনর্বহাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু ২০২৮
সালের গ্রীষ্মে হাউস অফ কাউন্সিলরস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়
এটি একটি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।
শাসক জোট দুই বছর মেয়াদী
কর ছাড়ের এই প্রকল্পটিকে একটি "অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা" হিসেবে উল্লেখ
করেছে, যা ২০২৯ অর্থবছরে নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য নতুন আয়-ভিত্তিক ত্রাণ
কর্মসূচি চালু না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আন্তঃদলীয় আলোচনার সময় এই
কর্মসূচিটি অনুমোদিত হয়েছিল।
জাপানের ভোগ করের হার
ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান কারণ হলো দ্রুত বয়স্ক হতে থাকা
জনসংখ্যার জন্য ক্রমবর্ধমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নির্বাহ করা। এই হার ৩
শতাংশ থেকে শুরু হয়ে ১৯৯৭ সালে ৫ শতাংশে এবং ২০১৪ সালে ৮ শতাংশে উন্নীত
হয়।
২০১৯ সাল থেকে এই হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা
হয়েছে, তবে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ব্যতীত খাদ্য ও পানীয় বিক্রয়ের
ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে তা বলবৎ হয়েছে। কিয়োদো।
WARNING:
Any unauthorized use or reproduction of 'Community' content
is strictly prohibited and constitutes copyright infringement liable to
legal action.
[প্রথমপাতা]
|