|
|
লাল পতাকা নিয়ে অপরাজনীতির উদাহরন মেনন-ইনু
মোমিন মেহেদী
শেষ পর্যন্ত মেনন ইনুর কবুল৷ এমন একটি সংবাদ শিরোনাম চোখের জালে ধরা পড়েছিল৷
এই শিরোনামকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে যেতে দেখা হয় ইতিহাসের সোনালী মুখ৷
সেখানে লাল পতাকার সস্নোগান দিতে দিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রাশেদ খান মেনন৷ তার
পাশাপাশি রয়েছেন হাসানুল হক ইনু৷ আজ দীর্ঘদিন পরও তারা ইতিহাসের পাতা থেকে
বর্তমানকে সাথী করে গড়ে তুলেছেন লাল পতাকা বিক্রির দোকান৷ যে কারনে শেষ
পর্যন্ত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ বহাল রেখে পাস হওয়া সংবিধানে
পঞ্চদশ সংশোধনী কবুল করলেন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির্র
সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু৷ সংবিধানে বিসমিল্লাহর
অন্তর্ভুক্তি ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির
মঞ্চ কাঁপিয়ে আসছিলেন তারা৷ উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে শাসক দল আওয়ামী লীগ
সংবিধান সংশোধন করলেও বিদ্যমান বাস্তবতায় মুসলিম দেশের মানুষের ধর্মীয়
অনুভূতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও
রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখেন৷ মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টিও চেয়ারম্যান
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আগাগোড়াই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ বহাল রাখার
পক্ষে ছিলেন৷ কিন্তু নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী মেনন-ইনু এর বিরোধিতা করেন৷
তারা সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে নোট অব ডিসেন্ট দেন৷ তারা সংসদে
সংশোধনীও দিয়েছিলেন৷ কিন্তু এই পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে পাসের সময় বিভক্তি ভোট
এলে তারা নানান নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যপদ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত 'হ্যাঁ'
ভোট দেন৷ না ভোটের লবি থেকে হ্যাঁ ভোটের লবিতে ছুটে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম
ও বিসমিল্লাহ কবুল করলেন মেনন-ইনু৷ তাদের সঙ্গে যোগ দেন ওয়ার্কার্স পাটির্র
ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের মঈনুদ্দিন খান বাদল, শাহ জিকরুল আলম ও ন্যাপের
আমিনা আহমেদ৷ বিলে তাদের দেওয়া সংশোধনীগুলো গৃহীত না হওয়ায় তারা প্রথমে ভোট
দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা
তাদের বোঝান ভোটদানে বিরত থাকলে ফ্লোর ক্রসিং হবে এবং সংসদ সদস্যপদ হারাতে
হবে৷ কারণ, সব বাম নেতাই আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা নিয়ে সংসদে নির্বাচিত
হয়ে এসেছেন৷ এ পরিস্থিতিতে বাম নেতারা দোটানায় পড়ে যান৷ তবে ভোট প্রদানের
সময় তারা তাদের সংশোধনীগুলো উল্লেখ করে ভোট দেন৷ বাম নেতাদের এ আচরণে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সিনিয়র নেতাদের বিরক্ত প্রকাশ করতে দেখা
গেছে৷ বিভক্তি ভোট দানের সময় স্পিকার বলেন, যারা সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেবেন
তারা হ্যাঁ লবিতে যাবেন, আর যারা না ভোট দেবেন তারা না লবিতে যাবেন৷ যারা
ভোট দানে বিরত থাকবেন তারা সংসদের নিজ আসনে বসে থাকবেন৷ বাম নেতারা বিভক্তি
ভোট চলাকালে নিজ আসনে বসে থেকে ভোট দানে বিরত থাকেন৷ এতে আওয়ামী লীগের মধ্যে
তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এ সময় দলের সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু মেননের
সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক কাজে লাগাতে চান৷ তিনি রাশেদ খান মেননকে
ভোট দিতে অনুরোধ করেন৷ একপর্যায়ে তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছুটে যান বাম নেতাদের কাছে৷ আওয়ামী লীগের সিনিয়র
নেতাদের অনুরোধও বাম নেতারা প্রত্যাখ্যান করলে শেখ সেলিম ও সৈয়দ আশরাফ
প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানান৷ পরে সংসদ সদস্যপদ হারানোর ব্যাপারে জানানো
হলে বাম নেতারা সংসদ লবিতে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ মেনে নিয়ে
পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেন৷ এই হলো আমাদের দেশে বাম আন্দোলনের অন্যতম
পথিকৃত্দের লাল পতাকাকাহন৷ যা জনগনকে আগামীতে আরো অস্থাহীন করে দেবে৷ লাল
পতাকার রাত হয়ে ফিরে আসছে এই নেতাদের আদর্শিক ভূমিকা৷ শেষ পর্যন্ত মেনন
ইনুর এই কবুল আমাদেরকে উপহার দিয়েছে একটি অন্ধকার সময়৷ এই সময়ের সূত্র ধরে
এগিয়ে আসছে কষ্টময় কালো হাত৷ যে হাতের ইশারায় আমাদের দেশ জুড়ে রামরাজত্ব
নিমর্ানের চেষ্টামগ্ন হয়েছে ৷ আমাদের আগামীকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে এই
নেতাদ্বয় গড়ে তুলেছেন অনবদ্য অন্ধকার৷ এই অন্ধকারের বাইওে আসতে এখন প্রয়োজন
সত্যিকারের চে গুয়েভারার আদর্শকে বাসত্মবায়ন করা৷ পাশাপাশি আলোকের সঙ্গী হতে
এগিয়ে আসতে হবে ৷ এগিয়ে যেতে যদি যুদ্ধ করতে তাও করবে শুধু ৰমতা ত্যাগই নয়৷
অথচ এই তথাকথিত বাম নেতারা তাদেও সংসদ সদস্যও মত ৰমতার কাছে পরাজিত হয়েছে
গড়ে তুলেছে অন্যায়ের অট্রালিকা৷ এই অট্রালিকার রঙধনু নতুন করে কোন নিপুন
যন্্রনা নিয়ে আসতে পারে বলে মনে হচ্ছে ৷ কেননা, এ্রা একদিকে বাপ্পাদিত্য
বসুর মত, হোসাইন আহমদ তফসিরের মত, শমছুল ইসলামের মত নেতাদেরকে মাঠে নামিয়ে
দিয়ে আপসের পসরা নিয়ে বসেছে৷ মাঝখানে হয়রানীর হরতাল আর অরাজকতার অপরাধে
তাদেও পোহাতে হলো পুলিশের হামলার রোদ৷ এই রোদ আসার আগেই কবুল পড়েছেন
মেনন-ইনু৷ মানেটা দাড়ালো এই যে, ৰমতার জন্য আমাদের লাল পতকাবাহী নেতারা
কাসত্মে থেকে নৌকা অথবা নৌকা থেকে দাড়িপালস্নায় যেতেও ্িদ্বধাগ্রস্থ হবে
না৷ কারন, তারা আদর্শ, দেশ, মানুষ, দল বা স্বাধীনতার জন্য রাজনীতি করে না৷
মেনন-ইনুদের রাজনীতির মূল লৰ্য ৰমতা৷ এই ৰমতাই তাদের পতনের রাত নিয়ে আসবে...
|
|